অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিতে হবে, হয়রানিও করা হবে না
সাবরেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হবে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। রাতারাতি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের জন্য কোনো একটি জায়গা থেকে কাজ শুরু করতে হবে, আর সেই কাজ শুরু হয়েছে লটারির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় পোস্টিংকে অনেক সময় ‘প্রাইস পোস্টিং’ হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ধারণা, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। সেই কথিত ‘প্রাইস পোস্টিং’-এর মধ্যেই এবার প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে বদলি করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৮টি সাবরেজিস্ট্রার পদে কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত কর্মকর্তাদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের কাজের চাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তার মতে, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সবার মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সরকার সেটি ভাঙতে চায়। লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলি সেই পরিবর্তনেরই একটি পদক্ষেপ।
আইনমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ জানাতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কোনো কর্মকর্তাকে হয়রানিও করা হবে না।
সারা দেশে মোট ৩৭২টি সাবরেজিস্ট্রার পদের মধ্যে ১৩৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।









