GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / স্বামীর মৃত্যুর পর একাধিক স্ত্রী কার কত ভাগ মুসলিম আইনে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম

স্বামীর মৃত্যুর পর একাধিক স্ত্রী কার কত ভাগ মুসলিম আইনে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম

স্বামীর মৃত্যুর পর একাধিক স্ত্রী কার কত ভাগ মুসলিম আইনে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম

একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারে একাধিক স্ত্রী থাকলে প্রত্যেক স্ত্রী কতটুকু সম্পত্তির অংশ পাবেন, সন্তান থাকলে হিসাব কীভাবে বদলাবে এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বা তার সন্তানদের অধিকার কী, এসব বিষয় নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়।

বাংলাদেশের মুসলিম আইন অনুযায়ী, একজন পুরুষ একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারেন। তবে উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু স্ত্রীর সংখ্যা নয়, মৃত ব্যক্তির সন্তান আছে কি না এবং সন্তানদের ধরনসহ আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়।

একাধিক মুসলিম বিধবা স্ত্রীর অধিকার

কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার তৈরি হয় না। তিনি জীবিত থাকাকালে নিজের সম্পত্তি বিক্রি, হেবা বা দান করতে পারেন।

তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার তৈরি হয় এবং তখন আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়টি আসে।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন মুসলিম পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলেও স্ত্রীরা প্রত্যেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট অংশ পান না। বরং সব বৈধ স্ত্রী মিলে স্বামীর সম্পত্তির নির্ধারিত একটি অংশ পাবেন।

সন্তান থাকলে স্ত্রীদের অংশ কত

মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার বিধবা স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রী মিলে স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ পাবেন।

অর্থাৎ একজন স্ত্রী থাকলেও তিনি একাই এক-অষ্টমাংশ পাবেন। আবার দুই, তিন বা চারজন বৈধ স্ত্রী থাকলেও সব স্ত্রী মিলে মোট এক-অষ্টমাংশ পাবেন।

একাধিক স্ত্রী থাকলে ওই এক-অষ্টমাংশ অংশ স্ত্রীদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে।

সন্তান না থাকলে স্ত্রীদের অংশ

মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকলে স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রী মিলে তার মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ পাবেন।

এ ক্ষেত্রেও একাধিক স্ত্রী থাকলে চার ভাগের এক ভাগ অংশ তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।

অর্থাৎ স্ত্রীর সংখ্যা বাড়লে মোট বরাদ্দ অংশ বাড়ে না। বরং নির্ধারিত অংশটিই একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ভাগ হয়।

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী কি সম্পত্তির অংশ পাবেন?

প্রতিবেদনে দেওয়া আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সাধারণভাবে সাবেক স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন না।

তবে তার পাওনা থাকলে দেনমোহর ও ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে।

তবে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ঘরে মৃত স্বামীর সন্তান থাকলে সেই সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।

দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের অধিকার

একাধিক বৈধ স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানদের উত্তরাধিকার নির্ধারণে তাদের বাবার সঙ্গে বৈধ বংশগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো স্ত্রী প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হওয়া একা সন্তানের উত্তরাধিকার বাতিল করে না।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঘটনাতেও দেখা যায়, প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর এক ছেলে ছিলেন। ফলে স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে একাধিক ওয়ারিশের অধিকার সামনে আসে।

হিন্দু আইনে একাধিক স্ত্রীর অধিকার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে সাধারণত দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দু পুরুষের একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রী আইনগত স্বীকৃতি পান। প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় পরবর্তী বিয়ের আইনগত বৈধতা নিয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথম স্ত্রী ছাড়া অন্য স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে আইনগত উত্তরাধিকার দাবি করতে পারেন না। তবে তাদের ভরণপোষণের বিষয়ে আইনগত অধিকার থাকতে পারে।

হিন্দু বিধবার সম্পত্তির অধিকার

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বামী মারা যাওয়ার পর হিন্দু বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে একটি নির্দিষ্ট জীবনস্বত্ব ভোগ করতে পারেন।

তিনি জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন, তবে সাধারণভাবে নিজের ইচ্ছামতো তা হস্তান্তর করতে পারবেন না।

তবে স্বামীর শ্রাদ্ধ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, দেনা পরিশোধ, নিজের ভরণপোষণ এবং সন্তানের ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো আইনগত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।

খ্রিস্টান আইনে কী বলা হয়েছে

প্রতিবেদনে আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, খ্রিস্টান ধর্মে একাধিক বা বহুবিবাহের অনুমতি নেই।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো খ্রিস্টান স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় অন্য একজন খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খ্রিস্টান আইনে বিধবা স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তির অংশ পান। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একজন ছেলের সমপরিমাণ অংশ পেতে পারেন।

বৌদ্ধদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বৌদ্ধরা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে হিন্দু আইন অনুসরণ করে থাকে।

সে হিসেবে বৌদ্ধ পুরুষের একাধিক বিয়ের বিষয়েও হিন্দু আইনের মতো বিধান প্রযোজ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম স্ত্রী ছাড়া অন্য স্ত্রীরা স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পান না বলে আইনজীবীদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

সম্পত্তি বণ্টনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সব মিলিয়ে, একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে শুধু স্ত্রীর সংখ্যা দেখে সম্পত্তির হিসাব করা যায় না। মৃত ব্যক্তির সন্তান আছে কি না, বৈধ স্ত্রী কতজন, তালাকের অবস্থা এবং অন্যান্য উত্তরাধিকারীর উপস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত বণ্টন নির্ধারিত হয়।

মুসলিম আইনে সন্তান থাকলে একাধিক স্ত্রী মিলে স্বামীর সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ, আর সন্তান না থাকলে এক-চতুর্থাংশ পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক স্ত্রী থাকলে সেই নির্ধারিত অংশ তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়।

তবে বাস্তব কোনো সম্পত্তি বিরোধে শুধু এই সাধারণ হিসাবের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের পূর্ণ তালিকা, সম্পত্তির ধরন এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Social Icons