GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রথম পাতা / বিএনপির ১০ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ | নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা

বিএনপির ১০ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ | নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা

বিএনপির ১০ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নজর এখন নতুন কমিটির দিকে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে অধিকাংশ সংগঠন। নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা থাকলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানিয়েছেন, শিগগিরই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি আসবে। পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে।

১০টি সংগঠনের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ

দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ।

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণভাবে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোনো কোনো সংগঠনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কমিটি বহাল রয়েছে।

এর ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।

নতুন কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ

নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট নেতারা নতুন কমিটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন।

সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়েও শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। কে সভাপতি হবেন, কে সাধারণ সম্পাদক হবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসবেন, তা নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আগ্রহ ও তৎপরতা রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় সেই আগ্রহ এখন অপেক্ষায় পরিণত হয়েছে।

পুরোনো কমিটিতে সংগঠনে স্থবিরতার অভিযোগ

বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, নতুন কমিটি হলে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন প্রাণ ফিরে আসতে পারে।

দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা, তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব কমানো এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে কমিটি না হওয়ায় অনেক পদপ্রত্যাশী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

যুবদলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও অন্যদের অপেক্ষা

বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল তুলনামূলকভাবে নতুন কমিটি পেয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে চলতি বছরের ৪ জুন ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

তবে স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল ও মৎস্যজীবী দলসহ অন্য সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা চলছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ শেষ

২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি গঠন হয়নি।

সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই বর্তমানে সংসদ-সদস্য এবং তাদের ওপর সরকারি দায়িত্বও রয়েছে। ফলে আগের মতো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তৃণমূলেও নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

কৃষক দল ও ছাত্রদলেও নতুন কমিটির দাবি

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদও ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। ফলে ছাত্রদল পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

মহিলা দল ও মুক্তিযোদ্ধা দলে দীর্ঘ অপেক্ষা

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি এবং সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে একই কমিটি দিয়ে সংগঠনটি চলছে।

আর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে সভাপতি এবং সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করে মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটি গঠিত হয়। এরপর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি হয়নি।

শ্রমিক ও মৎস্যজীবী দলেও একই চিত্র

২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে গঠিত সেই কমিটির মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হলেও এরপর আর নতুন কাউন্সিল হয়নি।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক এবং আব্দুর রহিমকে সদস্যসচিব করে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মারা যান। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও নতুন কমিটি এখনো হয়নি।

দ্রুত কমিটি চান তৃণমূলের নেতারা

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হাসান বলেন, তারা সবাই নতুন কমিটির অপেক্ষায় রয়েছেন। কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকে সুসংগঠিত এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য, ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের নেতৃত্বে আনার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে নতুন কমিটির অপেক্ষা

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অধিকাংশ দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শিগগিরই নতুন কমিটি দেওয়ার কথা জানানো হলেও সেই অপেক্ষার অবসান কবে হবে, এখন সেটিই বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রধান প্রশ্ন।

Social Icons