ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হতে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক অভাবনীয় অগ্রগতির পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে একাধিকবার টেলিফোনে উচ্চপর্যায়ের কথা হয়েছে।
তবে রিয়াদের পক্ষ থেকে সরাসরি মার্কিন সেনাবাহিনীকে সামরিক অভিযানে নামানোর অনুরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত তাতে সায় দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সরাসরি সেনা না পাঠিয়ে এর পরিবর্তে কেবল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং হুথিদের অবস্থান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে (টার্গেটিং) সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সামরিক সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার সৌদি আরব সফর করেছেন বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের ওপর যৌথ হামলা চালালে ইরানি প্রক্সি ও তেহরান সরাসরি সৌদি আরবের ভেতরে পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে আত্মরক্ষামূলক একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গড়তে চাইছে রিয়াদ।
সম্প্রতি ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘মোখা বন্দর’ ছাড়াও সমুদ্রপথের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকারী শেষ দুটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে হুথিরা।
গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর হুথিদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ফলে পুরো লোহিত সাগরীয় অঞ্চল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বড় ধরনের আইনি ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়েছে।



