GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ১৮৫০ শতাংশ জমির হেবা দলিল, দুই ভাইয়ের সম্পদে যোগসূত্র পেল দুদক

১৮৫০ শতাংশ জমির হেবা দলিল, দুই ভাইয়ের সম্পদে যোগসূত্র পেল দুদক

১৮৫০ শতাংশ জমির হেবা দলিল, দুই ভাইয়ের সম্পদে যোগসূত্র পেল দুদক

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের অংশ হিসেবে ভাই এবিএম শাহারিয়ারের নামে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে দুই ভাইয়ের সম্পদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে হেবা দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ভাইয়ের নামে হস্তান্তর করেন হারুন অর রশীদ।

তদন্তে বলা হয়েছে, সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপন করতে দুই ভাই পারস্পরিক যোগসাজশে সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

ভাইয়ের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য

দুদকের তদন্তে হারুন অর রশীদের ছোট ভাই এবিএম শাহারিয়ারের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে—

  • স্থাবর সম্পদের মূল্য: ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা
  • অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ: ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৮ টাকা
  • প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডে বিনিয়োগ: ৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫৭ টাকা

দুদকের হিসাবে, শাহারিয়ারের বৈধ আয়ের সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।

আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ছিল ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা।

এই সময়ে তার ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৪ টাকা। ফলে সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস হিসেবে পাওয়া যায় ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা।

অন্যদিকে তার নামে পাওয়া সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকা।

দুদকের হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হেবা দলিলে ১৮৫০ শতাংশ জমি

দুদকের তদন্তে দুই ভাইয়ের সম্পদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে।

তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে হেবা দলিলের মাধ্যমে শাহারিয়ার তার ভাই হারুন অর রশীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি পান।

তবে শাহারিয়ারের মামলায় ওই সম্পদের মূল্য ধরা হয়নি। হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলায় জমির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্পদের উৎস গোপনের অভিযোগ

দুদকের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, হারুন অর রশীদ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ভাইকে দিয়েছেন এবং তাকে সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন।

একই সঙ্গে দুই ভাই পরস্পরের সহযোগিতায় সম্পদের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের মামলায় অভিযোগ

হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে এবিএম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে এসব ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে নতুন আলোচনা

ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুদকের তদন্তে ভাইয়ের নামে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এখন এই সম্পদের উৎস, হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Social Icons