মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন—তবু গুগলের বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরছেন প্রবাসী বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল সারওয়ার ও সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী। শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে তাদের উপস্থিতি কেবল দৃষ্টি কাড়ে না, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের পরিচয়ও।
শাড়ি-পাঞ্জাবিতে বাংলাদেশের বার্তা

গুগলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই দম্পতির ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক উপস্থিতিদের চোখে পড়ে। একই সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে এক ধরনের বার্তা—বাংলাদেশি সংস্কৃতি কীভাবে বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে পারে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গুগল লোকাল গাইডস একসময় ‘মিট দ্য কাপল দ্যাট গাইডস টুগেদার’ শিরোনামে তাদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।
দাম্পত্যের পাশাপাশি সমাজসেবা
সেই প্রতিবেদনে শুধু তাদের দাম্পত্য জীবনের কথাই নয়, সমাজসেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাও তুলে ধরা হয়। গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের উপকারে নিজেদের অবদানের গল্পও এসেছে সেখানে।
কীভাবে শুরু পরিচয়, কীভাবে বেড়ে বন্ধন
২০১২ সালে বাংলাদেশে একটি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর ২০১৩ সালে বিয়ের পর ২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য পাভেল মালয়েশিয়ায় চলে আসেন। সুমাইয়া বাংলাদেশেই উদ্যোক্তা, কমিউনিটি লিডার ও সমাজকর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। দুই দেশে অবস্থান করলেও গুগল লোকাল গাইডস কমিউনিটিকে ঘিরেই তাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমন্ত্রণ ও স্বীকৃতি
দীর্ঘদিনের অবদানের ধারাবাহিকতায় চলতি বছর বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ গুগল ম্যাপস অবদানকারীদের সম্মেলন কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬-এ অংশ নিতে দুজনের পক্ষ থেকেই পৃথক আমন্ত্রণ এসেছে। পাভেল ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় লোকাল গাইডস সামিটে অংশ নিয়েছেন। পরে তাকে গুগল লোকাল গাইডসের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতেও তুলে ধরা হয়। ২০২১ সালে কমিউনিটি বিল্ডার ক্যাটাগরিতে গাইডিং স্টার অ্যাওয়ার্ড পান তিনি, পাশাপাশি ২০২৫ সালে কানেক্ট লাইভ টোকিওতেও অংশ নেন।
অন্যদিকে সুমাইয়া ২০২০ সালে শেখার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গবেষণার কাজের প্রেক্ষিতে হেল্পফুল হিরো ক্যাটাগরিতে গাইডিং স্টার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তিনি গুগল লোকাল গাইডসের কানেক্ট মডারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গুগল সদর দপ্তরের লোকাল গাইডস সামিট ও কানেক্ট লাইভে অংশ নেওয়ার পর ২০২৩ সালে কানেক্ট মডারেটর কনভারসেশন এবং ২০২৫ সালে কানেক্ট লাইভ টোকিওতেও অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসী জীবনে গুগল ম্যাপস-লোকাল গাইডস মানে শুধু প্রযুক্তি নয়
তাদের কাছে গুগল ম্যাপস ও লোকাল গাইডস কেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নয়; দৈনন্দিন কাজের অংশ। নতুন জায়গা দেখা, ভ্রমণের পরিকল্পনা, রিভিউ লেখা, ছবি ও ভিডিও আপলোড এবং মানচিত্র হালনাগাদ—সবই করা হয় মানুষের উপকারের লক্ষ্য সামনে রেখে। মালয়েশিয়ায় বসে তারা বিশ্বের নতুন লোকাল গাইডদেরও অনুপ্রাণিত করছেন।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই দম্পতির গল্প দেখায়—প্রবাসে থেকেও সংস্কৃতি ও কাজের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে প্রভাব রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে গুগল ম্যাপস-লোকাল গাইডসের মতো উদ্যোগে অংশ নেওয়া মানে বাস্তব উপকারের সঙ্গে নিজের পরিচয়কে দৃশ্যমান করা।
প্রশ্ন-উত্তর
পাভেল ও সুমাইয়ার প্রথম পরিচয় কখন?
২০১২ সালে বাংলাদেশের একটি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়।
কেন তাদের পোশাক বিশেষভাবে নজর কাড়ে?
গুগলের অনুষ্ঠানে শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে তারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে দৃশ্যমান করেন।
কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬-এ তাদের অংশগ্রহণ আছে কি?
দুজনের পৃথক আমন্ত্রণ এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









