সিলেট বন্ধুসভা অনলাইনে বসিয়ে দিল সাহিত্য-আড্ডার উষ্ণ বাতাস। তাদের ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে আহমেদ ছফার উপন্যাস ‘সূর্য তুমি সাথী’ নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে গ্রামীণ মানুষের টানাপোড়েন আর শোষণ-অবহেলার চিত্র।
ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে ‘সূর্য তুমি সাথী’

সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রটি অনুষ্ঠিত হয় ৪ আগস্ট। ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত এই আসরে ‘সূর্য তুমি সাথী’ পাঠ-আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা উপন্যাসের আবহ, চরিত্রের ভেতরকার টান এবং সমাজের দেখা-না-দেখা কাঠামো—সবকিছু মিলিয়ে ভাবতে বসেন।
প্রত্যন্ত গ্রামের সূক্ষ্ম নির্মাণ
আলোচনায় গুরুত্ব পায় উপন্যাসটির নির্মাণকৌশল। বলা হয়, এটি শুধু একজন মানুষ বা একক কোনো ঘটনার কাহিনি নয়। বরং লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে চট্টগ্রামের এক প্রত্যন্ত গ্রামের পরিবেশ পাঠকের সামনে দাঁড় করান। সেখানে কেন্দ্রে থাকেন হাসিম—একটি ক্ষুদ্র মানুষ, যে অতীতের কিছু ঘটনার কারণে বারবার অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হয়।
শোষণ, শ্রেণি আর ‘সমান মানুষ’ প্রশ্ন
আসরে আলোচনা হয় হাসিমের ভেতরের প্রশ্ন নিয়ে—কেন সব মানুষ সমান নয়। উপন্যাসে হাসিমকে শোষিত শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে দেখানো হয়েছে, আর গ্রামের মাতবর ও পরিষদের চেয়ারম্যানকে ধরা হয়েছে শোষক শ্রেণির প্রতীক হিসেবে। চরিত্রগুলোর মাধ্যমে উঠে আসে শ্রেণিগত বৈষম্যের বাস্তবতা।
সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মের বিভাজন
পাঠচক্রে সাম্প্রদায়িকতা-অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের বিভেদ এবং তা কীভাবে দৈনন্দিন সম্পর্ক ও সমাজচিন্তাকে প্রভাবিত করে—এসব দিকও আলোচনায় আসে। বলা হয়, লেখক সাধারণ কিছু চরিত্রের মধ্য দিয়েই এসব বিষয়কে স্পষ্ট করে তুলেছেন।
মানুষ—এই মূল চালিকা শক্তি
অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীরা জোর দেন উপন্যাসের ভিতরে থাকা মূল বার্তা নিয়ে। কথার সুর ছিল—সব বিভেদের কৃত্রিম দেয়াল ভেঙে মানুষের মৌলিক পরিচয় খুঁজে দেখাই এই গল্পের চালিকা শক্তি।
আয়োজনে বন্ধু মিনথিয়া রহমান, বন্ধু শুভ তালুকদার, বন্ধু অলখ সরকার ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফয়সাল আহমেদ, গায়ত্রী বর্মণ, সমরজিত হালদার, অনুপমা দাস, শাহরিয়ার আবির, সৌম্য মন্ডল, আহসানউল্লাহ খান, প্রাণেশ দাস, আজিজ বিন আহম্মদ, নয়ন হাজরাসহ অনেকে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্যও এই ধরনের আয়োজনের তাৎপর্য আলাদা। কারণ অনলাইনে বসেই বইয়ের ভাষা ছুঁয়ে ফেলে—দেশের সাহিত্য-ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কটা দূরে থাকলেও টিকে থাকে, আর নতুন প্রজন্মও উপন্যাসের ভেতরকার সমাজচিত্র বুঝতে শেখে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: bondhushava.com









