জুলাই মাসে দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরতে শুরু করেছে জোরেশোরে। সব মিলিয়ে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্সের (পিএমআই) মান বেড়ে হয়েছে ৫৭.৮—যার বড় চালিকাশক্তি উৎপাদন খাতের তীব্র পুনরুদ্ধার।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে—চারটি প্রধান খাতের মধ্যে তিনটিতেই আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে দেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এটা তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ উৎপাদন ও রপ্তানি টানলে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সামগ্রিক পিএমআই, রাস্তায় গতি বাড়ছে

জুলাইয়ে সামগ্রিক পিএমআই ৪.৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭.৮-এ। প্রতিবেদনের ভাষায়—অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও শক্তিশালী সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিলছে। এই উন্নতিটা এসেছে উৎপাদন খাতের কারণেই, যা সামগ্রিক পিএমআই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক অবদান রেখেছে।
উৎপাদনে বড় লাফ, নতুন অর্ডারে গতি
উৎপাদন খাতের পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৬৫.৪। এক মাসে বেড়েছে ১৬.৬ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়, আমদানি, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহকারীদের পণ্য সরবরাহ—সবগুলো সূচকেই সম্প্রসারণ হয়েছে।
তবে সতর্কতাও আছে। উপকরণের দাম বেড়েছে এবং অসমাপ্ত অর্ডারের সূচক এখনো সংকোচনের মধ্যে। অর্থাৎ, গতি বাড়লেও অর্ডার-চেইনের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি সমান হয়নি।
সেবা খাতে ধারাবাহিক বিস্তার
সেবা খাত টানা ২২তম মাসেও সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। জুলাইয়ে সেবা খাতের পিএমআই হয়েছে ৫৬। এখানে নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও উপকরণ ব্যয়ে দ্রুততর সম্প্রসারণ দেখা গেছে। একই সঙ্গে অসমাপ্ত অর্ডারের সংকোচনের হার কমেছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণও চলমান।
কৃষি এগোলেও গতি কমেছে
কৃষি খাত টানা ১১তম মাসে সম্প্রসারণের ধারায় আছে। জুলাইয়ে কৃষি খাতের পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৫৫.২। তবে সম্প্রসারণের হার আগের চেয়ে কমেছে—কমেছে ৯.৬ পয়েন্ট। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়লেও কর্মসংস্থানে সামান্য সংকোচনের দিক ফিরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
উপকরণ ব্যয় বাড়লেও অসমাপ্ত অর্ডারের সূচক সংকোচনের মধ্যেই রয়েছে। ফলে কৃষিতে গতি আছে, তবে অর্ডার ও জনবল পরিস্থিতিতে চাপ স্পষ্ট।
নির্মাণে সংকোচন থাকছে, উন্নতি শুধু আংশিক
নির্মাণ খাতে এখনো সামান্য সংকোচন চলছে। জুলাইয়ে এ খাতের পিএমআই ৪৯.৩—জুনের তুলনায় পরিস্থিতি উন্নত হলেও সংকোচনের বলয় থেকে বের হতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানে সংকোচনের হার কমেছে। তবে উপকরণ ব্যয় ও অসমাপ্ত অর্ডারের সূচকে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
আগামী মাস নিয়ে উদ্যোক্তাদের আশাবাদ
ফিউচার বিজনেস ইনডেক্সে সব খাতেই শক্তিশালী সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে। এতে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্যোক্তাদের উচ্চ আশাবাদ প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিবেদনের আলোকে বলা হয়েছে—উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধারের সঙ্গে কৃষি ও সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণই মূল চালক। অন্যদিকে নির্মাণ খাত সামান্য সংকোচনে থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি সুষম হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
১) জুলাইয়ে সামগ্রিক পিএমআই কত হয়েছে?
জুলাইয়ে সামগ্রিক পিএমআই বেড়ে হয়েছে ৫৭.৮।
২) কোন খাত সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে?
উৎপাদন খাতই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক অবদান রেখেছে এবং পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৬৫.৪।
৩) নির্মাণ খাতের অবস্থা কী?
নির্মাণ খাত এখনো সামান্য সংকোচনের মধ্যে আছে; পিএমআই ৪৯.৩।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









