GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছে শিগগির

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছে শিগগির

ভূমধ্যসাগরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার ও বন্দরে নিরাপত্তা তৎপরতার চিত্র

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সরাসরি কাজ শুরু করেছে। দ্রুত আইনি সহায়তা শেষে তাদের দেশে ফেরার উদ্যোগ এগোচ্ছে—প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য এটিই সবচেয়ে স্বস্তির খবর।

দূতাবাসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

ভূমধ্যসাগরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার ও বন্দরে নিরাপত্তা তৎপরতার চিত্র

খবর পেয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। পোর্ট সাঈদে যান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং প্রথম সচিব (শ্রম)। সেখানে তারা সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের সাধারণ প্রশাসন ও পোর্ট সাঈদ নিরাপত্তা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে হেফাজত

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের পুলিশ প্রধান দূতাবাসকে জানান, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকরা বর্তমানে তাদের হেফাজতেই আছেন। এরপর দূতাবাসের কর্মকর্তারা ওই বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পুরো ঘটনার খুঁটিনাটি শোনেন।

পথে কী ঘটেছিল

বাংলাদেশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আলাদা আলাদা সময়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে থাকাকালে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার কেউ কেউ লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের মাধ্যমেই সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এ জন্য পাচারকারীদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করে বিপুল অর্থ পরিশোধও করেছেন—কেউ কেউ জমিজমা বিক্রির কথাও জানান।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই দিবাগত রাতে মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জন একটি রাবারের নৌকায় লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। স্পিডবোটের ইঞ্জিন থাকলেও নৌকাটিতে নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দিক হারিয়ে নৌকাটি দীর্ঘ সময় ভূমধ্যসাগরে ঘোরে। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নৌকাটি অচল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকে এবং খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই কয়েক দিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায় তারা। পরে দূরে জাহাজের আলো দেখা গেলে ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে সাহায্যের সংকেত দেওয়ার চেষ্টাও করেন।

উদ্ধার ও দ্রুত ফেরার লক্ষ্য

অবশেষে ডেনমার্কের বাণিজ্যিক জাহাজ মারেজ্যাক তাদের উদ্ধার করে মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর নৌবাহিনী তাদের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তর করে। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে ১৫ বাংলাদেশি শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রিসে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তারা এখন দেশে দ্রুত ফিরে যেতে চান। দূতাবাস সেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য বার্তা: অনিয়মিত পথের ঝুঁকি যেমন বাস্তব, তেমনি বিপদে পড়লে কূটনৈতিক চ্যানেলে দ্রুত সহায়তার মূল্যও এখানে পরিষ্কার। পরিবারের সদস্যদের জন্য এখন মূল কথা—ডাক্তারি ও আইনি সহায়তা দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করা।

কিছু প্রশ্ন—সংক্ষেপে

উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি এখন কোথায় আছেন? পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে হেফাজতে আছেন।

দূতাবাস কী করছে? আইনি সহায়তা ও দেশে ফেরার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কর্মকর্তারা সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করছেন।

কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ? প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগের সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons