GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / কারা কারিগরি: পোশাক-সাবান বানাচ্ছে বন্দীরা

কারা কারিগরি: পোশাক-সাবান বানাচ্ছে বন্দীরা

কারা কর্মশালায় পোশাক ও কারিগরি কাজে ব্যস্ত বন্দীরা

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২ ও ৩–এর ভেতরে কারা কর্মীদের মতোই বন্দীদের দিন কাটে কাজের তাগিদে। পোশাক, সাবান থেকে শুরু করে ঘরোয়া ব্যবহার্য জিনিস বানানো—সবই চলে কারা কারিগরির হাত ধরে। এতে দক্ষতা বাড়ে, আবার আয়ও আসে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বন্দিদের পুনর্বাসনের বাস্তব পথ দেখায়—ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ।

পোশাক–সাবান বানানোর ভেতরকার চিত্র

কারা কর্মশালায় পোশাক ও কারিগরি কাজে ব্যস্ত বন্দীরা

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২–এ বন্দীদের তৈরি পণ্য ‘কারা পণ্য’ নামে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট বন্দীদের দেওয়া হয়—ফলে শুধু কাজ শেখা নয়, কাজের ফলও ঘুরে আসে নিজের জীবনেই।

পোশাক তৈরি হয় বন্দীদেরই শ্রমে। কারাগারে কর্মরতদের ইউনিফর্ম কিংবা সশ্রম কয়েদিদের নির্ধারিত মোটা সাদাটে কাপড়ের সুতা তৈরি থেকে শুরু করে পুরো পোশাক বানানো—সবই রয়েছে একই ধারায়। পাশাপাশি সুগন্ধি ও কাপড় ধোয়ার সাবানও বন্দীরাই তৈরি করছেন। রাতে ঘুমানোর কম্বলও তাঁরা নিজেদের তত্ত্বাবধানেই আধুনিক মেশিনে পরিষ্কার করছেন।

কাশিমপুর কারাগার–২ ও ৩: পুনর্বাসনের গতি

কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে কারাগার–২ ছাড়াও আরও কয়েকটি কারাগার আছে। এর মধ্যে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার–৩ অংশটিও এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। কারা মহাপরিদর্শকের বিশেষ অনুমতিতে কারাগার–২ ও ৩ সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়—বন্দীদের কাজের মধ্যে থাকার দৃশ্য।

মহিলা কারাগারে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজও চোখে পড়ে। মেঝেতে পাটি বিছিয়ে বসে চলছিল গল্পের ফাঁকে সেলাই। এমন কর্মপরিবেশে সময় নষ্ট হয় না; বরং কাজের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও দক্ষতা—দুইই বাড়ে।

প্রিজনার ক্যাশ: কাজের পরিধি শুধু কারিগরি নয়

কারাগারের ভেতরে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য ‘প্রিজনার ক্যাশ’ বা ব্যক্তিগত তহবিলের কার্ডের বিষয়টিও উঠে আসে। মজুরি যা পাবেন, এই কার্ডের মাধ্যমে দরকারি জিনিস কেনা যায়। চাইলে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, এমনকি পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকে।

বিউটি পারলারে প্রশিক্ষণ, তালিকায় ৩৫ ধরনের সেবা

বিউটি পারলারে বিভিন্ন সেবার কাজও চলছে। কোথাও চুল কাটছেন, কোথাও স্পা করার মতো সেবার দিক দেখা যায়। পারলারে মোট ৩৫ ধরনের সেবার মূল্যসহ তালিকা টাঙানো—এতেও বোঝা যায়, বন্দিদের দক্ষতা কাজে লাগানোর চেষ্টা কতটা নিয়মিত।

কাপড়ের মাপজোখ, কামিজ কাটার কাজ, সেলাই মেশিন চালানো—এসব কাজের পাশাপাশি থ্রিপিস, ওয়ানপিস, সাধারণ ব্লাউজের মতো পণ্যের মজুরির তালিকাও প্রদর্শিত। তবে ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ আপাতত বন্ধ আছে; ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আগে আবার শুরু হবে বলে জানানো হয়।

প্রবাসী পরিবারের জন্য বার্তা

কারা কারিগরির এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, কারাগারেও নতুন করে শেখার সুযোগ থাকে এবং কাজের মাধ্যমে আয় তৈরি হতে পারে। প্রবাসী পরিবারগুলোও এতে বুঝতে পারে—দূরে থাকলেও বন্দী স্বজনদের জীবনের গতি থেমে থাকে না; বরং পুনর্বাসনের পথে থাকে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ।

প্রশ্নোত্তর

বন্দীরা কী কী কাজ করছেন? পোশাক তৈরি, সুগন্ধি ও কাপড় ধোয়ার সাবান বানানো, কম্বল পরিষ্কারসহ নানা কারিগরি কাজ চলছে।

মজুরি কীভাবে আসে? পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের একটি অংশ এবং কাজের বিনিময়ে নির্ধারিত মজুরি—দুটোই কার্যক্রমের অংশ।

প্রশিক্ষণ কি শুধু কারিগরি? না, কাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত তহবিলের ব্যবস্থাও আছে, যাতে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও যোগাযোগের সুযোগ থাকে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons