পোল্ট্রি ও ছাগল খামিরিদের জন্য স্বস্তির বার্তা—বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নিজেদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন নিয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বিএলআরআই উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচ৯এন২ এবং গোটপক্স ভ্যাকসিনের সিড (ভ্যাকসিন তৈরির মূল নমুনা) হস্তান্তর করা হয়েছে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের লক্ষ্যে।
সচিবালয়ে ভ্যাকসিনের সিড হস্তান্তর

মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুটি ভ্যাকসিনের সিড হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। উদ্যোগটির লক্ষ্য—গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে দ্রুত খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, যাতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও প্রয়োগ জোরালো করা যায়।
বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা
আলোচনায় বলা হয়, ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন ও জীবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উৎপাদনে সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে। ভ্যাকসিন উৎপাদন স্থানীয়ভাবে হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ও সম্ভব হবে—আর খামিরিরা তুলনামূলক কম দামে উপযোগী সেবা পেতে পারে।
এইচ৯এন২ ভ্যাকসিন: স্থানীয় স্ট্রেইনের মিল
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এ খাতের অন্যতম বড় হুমকি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এইচ৫এন১ ও এইচ৯এন২ সাবটাইপের উপস্থিতির কথা বলা হয়। সেখানেই বিএলআরআই উদ্ভাবিত এইচ৯এন২ ভ্যাকসিনটি স্থানীয় স্ট্রেইন থেকে তৈরি—ফলে দেশের প্রচলিত ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনার কথা এসেছে। গবেষণায় এটিকে উচ্চমাত্রায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম বলা হয়েছে। বুস্টার ডোজ দিলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সুরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি বজায় থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
গোটপক্স ভ্যাকসিন: কম বয়সেও প্রয়োগের সুযোগ
ছাগল পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। গোটপক্সের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি—বিশেষ করে অল্পবয়সী ছাগলে ক্ষতির আশঙ্কা উল্লেখ করা হয়। বিএলআরআই উদ্ভাবিত গোটপক্স ভ্যাকসিনটি লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ধরনের, অর্থাৎ দুর্বল করা জীবিত ভাইরাস দিয়ে তৈরি। দুই মাস বয়সী ছাগলেও এটি প্রয়োগ করা যায় বলে বলা হয়েছে। বুস্টার ডোজ ছাড়াই এক বছর পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে—এমন ফল গবেষণায় তুলে ধরা হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বার্তাটা কেন জরুরি
প্রাণিসম্পদ খাত সরাসরি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। পোল্ট্রি ও ছাগল খামিরিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারের আয় কমে যায়—যা পরোক্ষভাবে প্রবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক চাপেও প্রভাব ফেলে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন তাই দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত।
প্রশ্নোত্তর
কোন দুটি ভ্যাকসিনের সিড হস্তান্তর করা হলো?
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচ৯এন২ এবং গোটপক্স ভ্যাকসিনের সিড হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তরের মূল উদ্দেশ্য কী?
বাণিজ্যিক উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের লক্ষ্যে গবেষণার উদ্ভাবনকে দ্রুত প্রয়োগে আনা।
এইচ৯এন২ ভ্যাকসিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ এটি স্থানীয় স্ট্রেইন থেকে তৈরি—দেশের প্রচলিত ভাইরাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









