সমস্যা স্বীকার করার মানসিকতা ইতিবাচক—এমন মূল্যায়নই দিলেন বিকেএমইএ সভাপতি। তবে তার সোজা বার্তা, বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটতে না পারলে কর্মসংস্থানও স্বাভাবিক গতি পাবে না।
সমস্যা চিহ্নিত করাই প্রথম ইতিবাচক দিক

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক সংকট, ব্যাংকিং খাতের চাপ, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ-ব্যবসায় আস্থার ঘাটতি—এসব ইস্যু শুরু থেকেই খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেছে। তিনি মনে করেন, কোনো সমস্যা মোকাবিলায় প্রথম ধাপ হলো তা স্বীকার করা।
সময় ঘনিয়ে বাজেট, তবু চাপ কমানোর চেষ্টা
তিনি আরেকটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন, ক্ষমতায় আসার পর তুলনামূলক স্বল্প সময়ে বাজেট দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় না পেরিয়েও জনগণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর চাপ কমাতে এবং কার্যক্রম সহজ করার চেষ্টা ছিল—এটাকেই তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সংস্কার ও ডায়ালগ—এনগেজমেন্টের গুরুত্ব
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সংস্কার ও ডিরেগুলেশনের উদ্যোগও নজরে এসেছে। পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণের পর্যায়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ার কথাও উঠে আসে। তাদের মতে, অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি বেসরকারি খাত—তাই মতামত নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজানো জরুরি।
মূল ঘাটতি কোথায়—বিনিয়োগ ও জ্বালানির টানাপড়েন
তবে আশু সমাধানের জায়গা স্পষ্ট। বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকায় কর্মসংস্থান অনেকটাই থমকে আছে—এটাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান স্বাভাবিকভাবে বাড়বে বলেই প্রত্যাশা।
অন্যদিকে জ্বালানি সংকটকে তিনি অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে ধরেন। বিনিয়োগের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সংকট—ফলে কারখানা চালানো, উৎপাদন ধরে রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আনা—সবকিছুতেই প্রভাব পড়ছে।
প্রবাসী পাঠকের জন্য বার্তাটা কী?
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি সরাসরি মুনাফা আর নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। চাকরি ও আয়ের সুযোগ স্থিতিশীল হলে রেমিট্যান্সের গতি থাকে। তাই বিনিয়োগ ও জ্বালানির বাধা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ না হলে, কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের গতি ধীরই থাকবে।
কী চাইছে তারা—দ্রুত সংস্কার, বাস্তব প্রয়োগ
সরকারের শুরুটা ইতিবাচক হলেও, সমস্যাগুলোর আশু সমাধান ও কার্যকর সংস্কার—এটাই দাবির মূল সুর। বিশেষ করে বিনিয়োগের পরিবেশ টেনে ধরে কর্মসংস্থানে গতি আনার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়া জরুরি।
প্রশ্ন: সরকারের ইতিবাচক দিক হিসেবে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: সমস্যাগুলো খোলাখুলি স্বীকার করা, বাজেট দেওয়ার উদ্যোগ এবং সংস্কার-ডিরেগুলেশনসহ বেসরকারি খাতের সঙ্গে এনগেজমেন্ট।
প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় বাধা কোনটি?
উত্তর: বিনিয়োগ স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকট—এই দুইয়ে কর্মসংস্থানের গতি থমকে আছে।
প্রশ্ন: সমাধান হলে কী লাভ হবে?
উত্তর: বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









