চুলকে মসৃণ ও চকচকে করতে মেথি ও ডিমের হেয়ার মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। মেথির মিউসিলেজ চুলে কন্ডিশনারের মতো কাজ করতে পারে। এতে চুল সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে।
অন্যদিকে, ডিমে রয়েছে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। চুলের যত্নে ডিমের ব্যবহারও বেশ প্রচলিত।
গ্লাস হেয়ার কী
চকচকে ও মসৃণ চুলে আলো পড়লে কাচের মতো প্রতিফলন দেখা যায়। এই লুককে বলা হয় গ্লাস হেয়ার।
সাধারণত কন্ডিশনিং, স্টাইলিং ও হিট প্রোডাক্ট ব্যবহার করে এই লুক তৈরি করা হয়।
তবে ঘরোয়া কিছু উপাদান ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ানো যেতে পারে। এর মধ্যে মেথি ও ডিমের হেয়ার মাস্ক অন্যতম।
মেথির হেয়ার মাস্ক
চুলের যত্নে মেথি বীজের ব্যবহার বেশ পুরোনো।
মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে মিউসিলেজ নামে জেলির মতো একটি আঠালো পদার্থ তৈরি হয়। এটি চুলে মসৃণ আবরণ তৈরি করতে পারে।
ফলে চুল ধোয়ার পর তুলনামূলকভাবে নরম, মসৃণ ও ঝলমলে দেখাতে পারে।
চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিক্যাল যত মসৃণ হয়, চুলের ওপর আলো তত সমানভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে চুল আরও চকচকে দেখায়।
মেথির হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে সারারাত আস্ত মেথি বা মেথির গুঁড়া পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে আস্ত মেথি হলে তা ব্লেন্ড করে নিন।
এরপর মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান।
১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
চাইলে মেথির সঙ্গে টক দই, তেল বা মেহেদি মিশিয়ে নিতে পারেন।
ডিমের হেয়ার মাস্ক
চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ডিমে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।
চুলের যত্নে ডিম ব্যবহার করতে একটি ডিমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ দই ও এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
মিশ্রণটি ভেজা চুলে ব্যবহার করতে হবে।
চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত মিশ্রণটি লাগান।
১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
এরপর চুল ভালোভাবে ধুয়ে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
চুলের যত্নে আরও কিছু টিপস
নিয়মিত চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত হিট ও স্টাইলিং থেকে চুলকে সুরক্ষিত রাখুন।
মেথি ও ডিমের হেয়ার মাস্ক চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ ও চকচকে দেখাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটিকে স্থায়ীভাবে গ্লাস হেয়ার পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা উচিত নয়।
