সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে দই অনেকেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও এটি সবার শারীরিক গঠনের জন্য মানানসই নয়।
দইয়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় দই খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এর তথ্যানুযায়ী, ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স বা দুগ্ধজাত শর্করা হজমে অক্ষম ব্যক্তিদের দই খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও ডায়রিয়া হতে পারে।
ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় দইয়ে ল্যাকটোজ কিছুটা কমলেও সংবেদনশীল পাকস্থলীর মানুষদের জন্য এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।
অন্যদিকে, যাদের দুধে প্রোটিনজনিত অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দই খেলে ত্বকে চুলকানি, আমবাত, শ্বাসনালী ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সব ধরনের দই সমমানের পুষ্টিকর নয়; বাজারে থাকা ফ্লেভারযুক্ত বা অতিরিক্ত মিষ্টি দইয়ে উচ্চ মাত্রার ক্যালরি ও চিনি থাকে যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
তাই স্বাস্থ্যবিদরা কৃত্রিম মিষ্টি দইয়ের বদলে প্লেন বা টক দইয়ের সাথে তাজা ফলমূল, বাদাম ও বীজ মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
দই নিয়মিত খাওয়ার পর হজমে নিয়মিত অস্বস্তি বা পেটে ব্যথা দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটাতে শুধু দইয়ের ওপর নির্ভর না করে কাঠবাদাম, সবুজ শাকসবজি ও ডালের মতো বিকল্প পুষ্টিকর উপাদানও খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব।
সার্বিক বিবেচনায় দই সবার জন্য বাধ্যতামূলক কোনো খাদ্য নয়, বরং ব্যক্তিগত হজম ক্ষমতা ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করেই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

