জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত জুলাইয়ে প্রাণঘাতী হামলার আগে ইরান চীনের সরবরাহ করা উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করেছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির বিস্তারিত স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছিল। পরে ওই ঘাঁটিতেই হামলা চালানো হয়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো প্রকাশ্যে জানাননি, কোন চীনা প্রতিষ্ঠান এসব স্যাটেলাইট ছবি ইরানকে সরবরাহ করেছিল।
হামলায় নিহত ৩ মার্কিন সেনা
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন।
হামলার আগে ইরানের কাছে ঘাঁটির বিস্তারিত ও উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব ছবি হামলার প্রস্তুতি বা লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
চীনা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের সঙ্গে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তারা এখনো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি।
একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেননি।
অর্থাৎ, স্যাটেলাইট ছবি চীনা কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানের হাতে পৌঁছালেও এর সঙ্গে চীন সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চীনের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে বেইজিং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছে।
ফলে ইরানের হামলায় ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ছবির উৎস এবং এর সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আগেও চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা
এর আগে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানকে এ ধরনের স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহে সহায়তা করেছে।
নতুন প্রতিবেদনের তথ্য সামনে আসার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং চীনা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।







