বাগেরহাটে রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে বর্ষার শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও বর্তমানে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক পানির সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে বীজতলা থেকে ধানের চারা তোলার সময় পানি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
পানি কম থাকায় বীজতলার মাটি শক্ত হয়ে গেছে। এতে চারা তুলতে গিয়ে শিকড় ছিঁড়ে যাওয়া ও চারার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কোথাও কোথাও পানি দিয়ে বীজতলা ভিজিয়ে চারা তোলার চেষ্টা করছেন তারা।
কৃষক আব্দুল কাদের জানান, আমন ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় চলছে। তাই বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু বীজতলায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাটি শক্ত হয়ে গেছে। ফলে সহজে চারা তোলা যাচ্ছে না।
আরেক কৃষক রহিম শেখ বলেন, আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি প্রয়োজন। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে পর্যাপ্ত পানি জমেনি। এতে জমি চাষ ও চারা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সময়মতো বৃষ্টি হলে আমন আবাদ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ৭৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ২৮ হাজার ১৬৪ হেক্টর, হাইব্রিড ৬ হাজার ২৫২ হেক্টর এবং উফশি জাতের ৩৮ হাজার ৮২৯ হেক্টর জমি রয়েছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, কৃষকদের সার্বিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকে কিছু বীজ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু বীজ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের খামারবাড়ির মাধ্যমে কৃষকদের বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।
কৃষকদের প্রত্যাশা, দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও জমিতে রোপণের কাজ সহজ হবে। পাশাপাশি আমন ধানের আবাদও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
