ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত থাকলেও আলোচনা চলাকালে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে চান, তাহলে তাকে মস্কোয় আসতে হবে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে ল্যাভরভের এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
আলোচনায় বসতে প্রস্তুত মস্কো
মস্কোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই।
তার দাবি, মস্কো এখনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি।
তবে আলোচনার প্রস্তুতির পাশাপাশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জেলেনস্কিকে মস্কোয় আসার আহ্বান
ল্যাভরভের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি সরাসরি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান, তাহলে তাকে মস্কোয় যেতে হবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বড় ধরনের সদিচ্ছার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এখনো রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা নিষিদ্ধ করে জারি করা নিজের ডিক্রি বাতিল করেননি।
আলোচনা হলেও যুদ্ধ বন্ধ নয়
ল্যাভরভ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, তা হলো আলোচনা শুরু হলেও রাশিয়ার সামরিক অভিযান থামবে না।
অর্থাৎ, মস্কো একদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা বলছে, অন্যদিকে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থানও ধরে রেখেছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আলোচনার বিষয়ে মস্কোর আগ্রহ এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে।
রাশিয়ার অবস্থান কী
ল্যাভরভের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় বসার জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। তবে সরাসরি পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের ক্ষেত্রে মস্কোকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া।
একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিদ্যমান অবস্থান এবং রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা সংক্রান্ত ডিক্রি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
যুদ্ধের মধ্যেই আলোচনার সম্ভাবনা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে ল্যাভরভের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনা শুরু হলেও সেটি সামরিক অভিযান বন্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে না।
ফলে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথ কতটা এগোয় এবং দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।





