বিদেশ যাওয়ার সুবিধা নেওয়ার জন্য শুধু কাগজে-কলমে বিয়ে করা বা নির্দিষ্ট সময় পর বিচ্ছেদের পূর্বপরিকল্পনা রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। বিয়ে ইসলামে একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। তাই ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য বিয়েকে অভিনয় বা প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা গুরুতর অন্যায়।
বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অভিনয় করে বিয়ের কাগজপত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। পরে বিদেশে গিয়ে দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। ইসলামি দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
চুক্তি করে বিয়ের নামে অভিনয় করা
একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কেউ যদি শুধু বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিয়ে করেন এবং পরিকল্পনা থাকে যে ইমিগ্রেশন বা বর্ডার পার হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যাবেন, তাহলে সেটি মূলত বিয়েকে তামাশায় পরিণত করার মতো।
অর্থাৎ, বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য না রেখে শুধু বিদেশ যাওয়ার সুবিধা নেওয়ার জন্য বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করা বৈধ নয়।
শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হলে অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয়
ইসলামি বিধান অনুযায়ী প্রস্তাব ও সম্মতি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়ে এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ে হলে তা বিয়ে হিসেবেই গণ্য হবে। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের অধিকার ও দায়িত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই শুধু কাগজে-কলমে বিয়ে হয়েছে, বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই, এমন দাবি করে স্বামী বা স্ত্রী নিজেদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবেন না।
স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যে অধিকার ও দায়িত্ব শরিয়ত নির্ধারণ করেছে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
আগেই বিচ্ছেদের পরিকল্পনা থাকলে সমস্যা আরও গুরুতর
যদি বিয়ের সময় থেকেই পরিকল্পনা থাকে যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হবে বা দুজন আলাদা হয়ে যাবেন, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে যায়।
কারণ এখানে বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্যের পরিবর্তে অন্য একটি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য কাজ করছে। এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে বিয়ে করাকে ইসলামি দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে তালাক না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার চেষ্টা করাও বৈধ হবে না।
বিয়েকে প্রতারণার মাধ্যম না বানানোই ইসলামের শিক্ষা
বিয়ে ইসলামে শুধু বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র পাওয়ার একটি মাধ্যম নয়। এটি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব, অধিকার, ভালোবাসা ও পারিবারিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন।
তাই বিদেশে যাওয়া, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশনের সুবিধা নেওয়া কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য বিয়েকে সাজানো বা অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন—
النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
অর্থাৎ, ‘বিয়ে হলো আমার সুন্নত (আদর্শ)। সুতরাং যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাজাহ, ১৮৪৬)
তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র সম্পর্ককে কোনো সাময়িক সুবিধা বা বিদেশ যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার না করে ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিয়ের উদ্দেশ্য, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।









