অলি-গলি থেকে শুরু করে পেশাদার খেলার মাঠ কিংবা টিভির পর্দা—টেনিস বল বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই সুপরিচিত উজ্জ্বল হলুদ রং।
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্প্রচারিত হোক না কেন, টেনিস বলের এই নির্দিষ্ট রঙের কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।
তবে কৌতূহল জাগানিয়া বিষয় হলো, শুরু থেকেই কিন্তু টেনিস বলের রং এমন হলুদ ছিল না; খেলাটির শুরুর দিকে মূলত সাদা কিংবা কালো রঙের বল ব্যবহার করা হতো।
পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে টেলিভিশনের ব্যাপক জনপ্রিয়তার সাথে সাথে বলের রঙের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটে।
রঙিন টেলিভিশনের পর্দায় দ্রুতগতির বল যেন বিশ্বজুড়ে দর্শকরা স্পষ্টভাবে দেখতে পান, সেই উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন (ITF) ১৯৭২ সালে এক ব্যাপক গবেষণা চালায়।
গবেষণায় দেখা যায়, অপটিক ফ্লোরেসেন্ট হলুদ (যা ‘ক্যানারি ইয়েলো’ নামে পরিচিত) রংটি টিভির পর্দায় ও দূর থেকে যেকোনো সাধারণ মানুষের চোখে সবচেয়ে দ্রুত ও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে।
এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই ১৯৭২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে হলুদ রঙের বল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটপ্রিন্ট পেলেও ঐতিহ্যবাহী টেনিস টুর্নামেন্ট ‘উইম্বলডন’ কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিবর্তন গ্রহণ করেনি; তারা ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সাদা বলই ব্যবহার করে এসেছিল।
অবশেষে ১৯৮৬ সালে উইম্বলডন কর্তৃপক্ষও তাদের নীতি বদলে বহুল জনপ্রিয় এই হলুদ বলকেই টুর্নামেন্টের দাপ্তরিক বল হিসেবে বেছে নেয়।
আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘রিডার্স ডাইজেস্ট’-এর তথ্যমতে, টেনিস বলের এই বিশেষ হলুদ রং কেবল নান্দনিকতার জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকদের টিভি স্ক্রিনে নিখুঁত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গৃহীত হয়েছিল।
