সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরের পাশাপাশি মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ অঞ্চলেও এ সতর্কতা দেওয়া হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, মক্কা শহরে বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
মক্কা ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা
এর আগে সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির ছয়টি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হায়োমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ও সৌদি সেনারা ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
সোমবার ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন আহত হওয়ার একদিন পরই এসব নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
মক্কার দিকে হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি গোষ্ঠী। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
মক্কাকে লক্ষ্য করার দাবি অস্বীকার হুথিদের
হাজেম আল-আসাদ বলেন, মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ পুরোনো ও ভিত্তিহীন। তার দাবি, এ ধরনের অভিযোগ আগেও করা হয়েছে এবং তা বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি-হুথি সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি ভূখণ্ডে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা।
হুথিদের দাবি, দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগার এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
একই সময়ে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে। ফলে মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে মক্কায় সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা কেন ঠিক ওই সময়ে জারি করা হয়েছিল এবং কথিত হুমকির সুনির্দিষ্ট উৎস কী ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।







