GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / পানির সংকট ও অনাবৃষ্টিতে বিশ্ব চালের বাজার অস্থিতিশীল

পানির সংকট ও অনাবৃষ্টিতে বিশ্ব চালের বাজার অস্থিতিশীল

প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অনাবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চালের বাজারে তীব্র অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বে চাল রপ্তানির শীর্ষ তিন দেশ—ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ওপর বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ অনেকাংশে নির্ভরশীল হলেও অনাবৃষ্টি ও পানির সংকটে দেশগুলোর উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

একক দেশ হিসেবে বিশ্ব চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত, যারা বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টন চাল রপ্তানি করে থাকে।

তবে গত আগস্টে দেশটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় মূল মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে; যার প্রভাবে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৭৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ থাইল্যান্ডেও সংকট ঘনীভূত হচ্ছে; এল নিনো ও পানির তীব্র সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, দেশটির চাল উৎপাদন ২ শতাংশ বা প্রায় ৪ লাখ টন কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া নদীর অববাহিকার প্রধান চারটি জলাধারে পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকেরা অফ-সিজন বা মৌসুমবহির্ভূত ধান চাষ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে, এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ভোক্তা দেশ ইন্দোনেশিয়া বিশাল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর ২০ থেকে ৪০ লাখ টন চাল আমদানি করে থাকে, যার ফলে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোতে সংকট বাড়লে ইন্দোনেশিয়ার মতো আমদানিকারক রাষ্ট্রগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

তবে ভারত ও থাইল্যান্ডে চালের বাজার অস্থিতিশীল হলেও ভিয়েতনামের বাজার এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, যেখানে প্রতি টন ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল ৪৪০ থেকে ৪৪৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এই আবহাওয়াজনিত সংকট দীর্ঘায়িত হলে পুরো এশিয়া অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Social Icons