কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তুহিনকে আটক করে পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, টাকা আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তুহিনের বিরুদ্ধে একটি মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়, সোহাগ নামের এক ব্যক্তি কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন। পরে পূর্বপরিচিত তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহাগ।
সোহাগের পরিবারের দাবি, মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। পুলিশের এক তৎকালীন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। তবে টাকা দেওয়ার পরও মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
সোহাগ অভিযোগ করেন, তুহিন তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। তার ভাষ্য, আগের অভিযোগের সময় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের দাবি, কোটবাড়ি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকের সঙ্গে তুহিনের সম্পৃক্ততা ছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের কয়েকজনের সঙ্গেও তুহিনের চলাফেরা ছিল। ওই সময় কিশোরদের আটকের ঘটনায় অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যোগাযোগের তথ্য
তুহিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তার পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিনকে আটকের পর শাহরিয়া আনাস নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তুহিনের সঙ্গে আনাসের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আনাস অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অপ্রতিমের সঙ্গে তার পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, অপ্রতিম মাঝেমধ্যে তাকে ছবি তোলার জন্য মেসেজ দিতেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য
তুহিনের বাড়ির পাশের এক নারী জানান, বাড়িতে তুহিন শান্ত থাকলেও বাইরে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মিশতেন। তার বিরুদ্ধে আগে বন্ধুদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
আরেক নারী জানান, বিভিন্ন কারণে তুহিনের বাবা তাকে মারধর করে শাসন করতেন।
এদিকে তুহিনের এক খালা খবর পেয়ে বাড়িতে আসার কথা জানালেও তার আচরণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, টাকা আত্মসাৎ, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের তথ্য মিলেছে।








