সরকার কর্তৃক একলাফে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণার পর পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় গভীর সমুদ্রে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ শিকারে যাওয়ার খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া, মহিপুর, আলীপুর ও পাথরঘাটা সংলগ্ন মহিপুর মৎস্য বন্দরের ট্রলার মালিক ও জেলেদের মতে, এমনিতেই সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা না মেলায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া দামে তারা দেনার দায়ে জর্জরিত, তার ওপর ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবন-জীবিকাকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
এক একটি ট্রলার গভীর সাগরে ৮ থেকে ১০ দিনের মাছ ধরার ট্রিপে পাঠাতে হাজার হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়; ফলে লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় ট্রিপপ্রতি অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা শুধু জ্বালানি বাবদই খরচ হয়ে যাবে।
ক্ষুব্ধ জেলেরা জানান, মাছ বিক্রির আয় দিয়ে যদি ট্রলারের তেল ও চালকের খরচই না ওঠে, তবে তাদের পক্ষে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং বাধ্য হয়ে অনেককেই সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করে দিতে হবে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতি ও ট্রলার মালিক সংগঠনের নেতারা অতি দ্রুত প্রান্তিক উপকূলীয় জেলেদের জন্য জ্বালানি তেলে বিশেষ ভতুর্কি বা সহনীয় দামে ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় পুরো উপকূলীয় মৎস্য অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
