দীর্ঘ ৪৫টি বছর সবুজ ঘাসের ক্রিকেট মাঠে কাটিয়েছেন তিনি—বয়সভিত্তিক দল, ঘরোয়া লিগ ও বিসিবি ‘এ’ দল পেরিয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৩টি টেস্ট ও ৩টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে।
তবে রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সাবেক অফস্পিনার ফাহিম মুনতাসির ‘সুমিত’ তাঁর দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনে বিন্দুমাত্র জানতে পারেননি যে তিনি এক বিশাল শারীরিক সীমাবদ্ধতা সঙ্গে নিয়ে মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর দীর্ঘ ২১ বছর পর, ৪৩ বছর বয়সে এসে এই সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার জানতে পারেন যে তিনি জন্মগতভাবেই মাত্র একটি কিডনি নিয়ে বেড়ে উঠেছেন ও খেলাধুলা চালিয়ে গেছেন।
২০২৩ সালে ভারতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সময় আলট্রাসনোগ্রামে তাঁর বাঁ পাশের কিডনিটি অনুপস্থিত ধরা পড়ে; চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, প্রকৃতিপ্রদত্তভাবে এতদিন তাঁর সেই একটি কিডনিই দুটি কিডনির সমপরিমাণ কর্মক্ষমতা বজায় রেখেছিল।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে একজন একটি কিডনি নিয়ে জন্মালেও ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান এ ধরণের মানুষকে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের খেলায় অংশ নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করে, কারণ একমাত্র অঙ্গটিতে সামান্য চোট লাগলেও জীবন সংশয় তৈরি হতে পারে।
তবে ফাহিম বিষয়টি আগে না জানার কারণে খেলায় কোনো বাধা তৈরি হয়নি এবং জন্মগতভাবে মাত্র একটি কিডনি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলার ঘটনা বিশ্ব ক্রীড়া ইতিহাসে ফাহিম মুনতাসির ছাড়া দ্বিতীয়টি আর নেই।
দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও বোলিংয়ের অনবরত চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁর একমাত্র কিডনিটিতে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয় এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এ বছরের শুরু থেকেই তাঁকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে।
বর্তমানে চিকিৎসকেরা ফাহিমকে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন, যার জন্য ভারত বা পাকিস্তানে প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা; এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’।
