GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে ইরানের এয়ারলাইন্স: সতর্ক করলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট

বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে ইরানের এয়ারলাইন্স: সতর্ক করলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট

ইরানের ওপর চলমান অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র করে তুলে বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা থেকে দেশটির এয়ারলাইন্সগুলোকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করার সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিদেশি কোনো সংস্থা যদি ইরানের বিমান বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপরও অবিলম্বে কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা (সেকেন্ডারি স্যাংশনস) জারি করা হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানের সবকটি বিমান সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির ও অচল হয়ে পড়তে যাচ্ছে।

এই কঠোর বার্তা কেবল ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্যই নয়; বরং বিদেশে তাদের রিফুয়েলিং, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ল্যান্ডিং চার্জ প্রদান, টিকিট বিক্রি ও সাধারণ বিমানবন্দরে তাদের ব্যবহৃত লজিস্টিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর জন্যও এক বড় ধরনের সতর্কবার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “ইরানি বিমান অবতরণ করলে তাদের কোনো জ্বালানি, গ্রাউন্ড সাপোর্ট বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া যাবে না; কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদেরও মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও নিষিদ্ধ করা হবে।”

মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত বৃহত্তর অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই কড়া ও সর্বাত্মক কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও চলমান ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে কোনঠাসা করতে কার্যকর পদক্ষেপ।

চলতি মাসের শুরুর দিকেই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় পূর্বে নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা ইরানের সব বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সেগুলোকে সহায়তা দেওয়া বাইরের একাধিক বিদেশি কোম্পানির ওপরও জরিমানা জারি করে।

বহু বছর ধরে কার্যকর থাকা মার্কিন অবরোধের কারণে এমনিতেই ইরানের এভিয়েশন শিল্প চরম সংকটে রয়েছে; নতুন বিমান কেনা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পেতে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের সীমাহীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় জ্বালানি, নৌপরিবহন, প্রযুক্তি, প্রযুক্তি খাত, সোনা ও ডিজিটাল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ক্ষেত্রগুলোতে ইরানের সাথে বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর আন্তর্জাতিক আইনি শাস্তির মুখে ফেলার কৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে।

Social Icons