কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ প্রায় দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হয়েছিল। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।
দেড় বছর আগের সেই অভিযান
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ ফাহাদসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে জব্দ করা গাঁজা ধ্বংস করা হয়েছিল।
আটক কিশোরদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এবং ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপ্রতিম নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার
এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বাবার দোকানে কাজ নিয়েছিল ফাহাদ
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আসামি ফাহাদ চলতি মাসের ২ তারিখে অপ্রতিমের বাবার ইলেকট্রিক দোকানে কাজ নেয়। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে তার স্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আটক হওয়া সেই কিশোরই বর্তমান মামলার আসামি ফাহাদ।
চারজন গ্রেফতার, তিনজনের জবানবন্দি
এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
অন্যদিকে অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে তার ছেলেকে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে যদি তার ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
প্রতিশোধের প্রশ্ন
২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযান এবং ২০২৬ সালের অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে। তবে প্রতিশোধের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনের তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
ড. নাহিদা বেগম তার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।









