GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / অসুস্থ হয়েও অফিসে যান? গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ কারণ

অসুস্থ হয়েও অফিসে যান? গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ কারণ

অসুস্থ হয়েও অফিসে যান? গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ কারণ

শরীর অসুস্থ, সামনে কাজের চাপ। এমন পরিস্থিতিতেও অনেকে অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রতি তিনজন থেকে অর্ধেক মানুষ অসুস্থ অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে যান। কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কাজ করার এই প্রবণতাকে বিশেষজ্ঞরা ‘প্রেজেন্টিজম’ বলে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থ অবস্থায় ছুটি না নেওয়ার পেছনে ব্যক্তির কাজের সঙ্গে মানসিক সম্পর্ক এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণরা কেন কম অসুস্থতাজনিত ছুটি নেন?

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সি কর্মীরা গড়ে ২.৪ দিন অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়েছেন। অন্যদিকে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে এই গড় ছিল ৬.২ দিন

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক স্যার ক্যারি কুপারের মতে, তরুণদের অনেকেই তুলনামূলকভাবে কম চাকরির নিরাপত্তা থাকা কাজে যুক্ত থাকেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যাও তাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অসুস্থতার কারণে ছুটির প্রয়োজন কম হতে পারে।

তবে কর্মক্ষেত্রে কল্যাণ ও নিয়োগকর্তার আচরণ নিয়ে তরুণদের প্রত্যাশা বেশি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

কাজ যখন পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষের কাছে কাজ তাদের আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। পেশাগত মনোবিজ্ঞানে এটিকে ‘ওয়ার্ক সেন্ট্রালিটি’ বলা হয়।

গবেষণায় কাজের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফলে কাজকে নিজের পরিচয়ের কেন্দ্রীয় অংশ মনে করা ব্যক্তিদের কাছে অফিসে অনুপস্থিত থাকা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ড. অড্রে ট্যাংয়ের মতে, শিক্ষক, চিকিৎসক ও নার্সের মতো পরিচর্যামূলক পেশায় সবসময় কাজে উপস্থিত থাকার প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে।

অফিসের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ

মনোবিজ্ঞানী ড. তারা কুইন-সিরিলোর মতে, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি কর্মীদের অসুস্থতাজনিত ছুটি নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে জনবল কম থাকলে কর্মীরা মনে করতে পারেন, তারা ছুটি নিলে সহকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়বে। আবার কিছু কর্মক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার এমন সংস্কৃতি থাকতে পারে, যেখানে অসুস্থ হলেও বিশ্রামের বদলে কাজে থাকার চাপ তৈরি হয়।

কর্মীদের অনুপস্থিতিকে যদি নিয়মিতভাবে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, তাহলে বিচার বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় অনেকে প্রয়োজনীয় ছুটিও নিতে চাইতে পারেন না।

কখন কাজে না যাওয়াই উচিত?

ড. ট্যাংয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, বমি বা ডায়রিয়া থাকলে উপসর্গ পুরোপুরি ভালো হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা এবং জ্বর থাকলে ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকা উচিত।

সর্দি-কাশির মতো সাধারণ অসুস্থতার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

অতিরিক্ত কাজের চাপ বা অসুস্থতার কারণে যদি ঘুমের সমস্যা হয়, নিজের যত্ন নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে কিংবা কাজ থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব না হয়, তখন বিশ্রামের প্রয়োজন হতে পারে।

Social Icons