ভারত-জাপান ম্যাচে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পাঁচ ওভারে নামিয়ে আনা হয়েছিল। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৩০ রান সংগ্রহ করে। জাপানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১ রান।
শেষ ওভারে জাপানের প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ৮ রান। প্যাটেলের করা একটি ডেলিভারি আম্পায়ার ওয়াইড ঘোষণা করার পর পরের বলেও একই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও বোলার প্যাটেল আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেন।
এরপর দ্বিতীয় ওয়াইডের সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করা হয়। ফলে জাপান একটি অতিরিক্ত রান এবং একটি বাড়তি বল থেকে বঞ্চিত হয়।
শেষ ওভারে কী হয়েছিল
ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পর জাপান শেষ তিন বলে তিনটি সিঙ্গেল নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের চেয়ে দুই রান কম সংগ্রহ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক রিভিউয়ের আশ্রয় নেননি। ঘটনাটি নিয়ে ক্রিকেট সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।
উইজডেনের ক্রিকেট লেখক বেন গার্ডনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাপানের বিপক্ষে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে আম্পায়ারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এটি তার ব্যক্তিগত মন্তব্য, এবং প্রতিবেদনে এমন চাপ প্রয়োগের স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ক্রিকেটের আইন কী বলছে
প্রতিবেদনে মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাবের (MCC) ক্রিকেট আইনের ২২.৩ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আম্পায়ার ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বল ফিল্ডারের সংস্পর্শে আসার আগে ব্যাটসম্যানের ব্যাট বা শরীরে স্পর্শ করা, অথবা ডেলিভারিটি নো-বল হিসেবে ঘোষণা করা।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই ঘটনায় এই দুই পরিস্থিতির কোনোটিই ঘটেনি। তাই ওয়াইডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচনা ও বিতর্ক
ঘটনাটি নিয়ে ক্রিকেট মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট ছিল না। অন্যদিকে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে ওই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে জাপানের সমর্থকদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে আম্পায়ারকে চাপ দিয়ে ম্যাচ জিতেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনে নেই। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মূল বিতর্কের বিষয় হলো ওয়াইডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং সেটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।









