নাটোরের লালপুরে কবুতরের বাসার আড়ালে হ্যাকিংয়ের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের নজর এড়াতে বাড়ির সামনে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হন কথিত ‘ইমো হ্যাকিং চক্রের সর্দার’ ওহিদুল মোল্লা ও তার পাঁচ সহযোগী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওহিদুল মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার ওহিদুল মোল্লার বয়স ৩২ বছর। তিনি লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় তার অধীনে কয়েকশ হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছিল। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ইমু সর্দার’ নামে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, ওহিদুলের প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতরের জন্য বাসা তৈরি করা হয়েছিল। ওই কক্ষেই একটি খাট রাখা ছিল। বাইরে থেকে দেখলে সেখানে মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে বলে বোঝার উপায় ছিল না।
কক্ষটিতে দামি আসবাবপত্রের পাশাপাশি সিসিটিভি মনিটর ও এসি ছিল। পুলিশ বলছে, হ্যাকিংয়ের কাজে ওহিদুল নয়টি মোবাইল ফোনে ৬৮টি সিম ব্যবহার করতেন।
পুলিশের দাবি, ওই কক্ষে বসেই অন্যের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য হ্যাকিং করা হতো। বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন হিসাব আলাদা করে রাখতে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
যাতায়াতের জন্য ওহিদুল দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। তার সঙ্গে একাধিক দেহরক্ষীও থাকত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় লালপুর থানার এসআই আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লার পাশাপাশি তার পাঁচ সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার অন্য পাঁচজন হলেন মো. সাব্বির হোসেন (২৩), মো. মোতাকাব্বির আলী (২৩), মো. শুকুর আলী (৫০), মুক্তার হোসেন (৩৪) ও মো. আলামিন (২৩)। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।









