GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রভাবে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রভাবে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রভাবে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ সেন্ট কমে ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বাজারে স্বস্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও একই সময়ে তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতার দিকে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সংঘাত কমার সম্ভাবনা তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে দিনের লেনদেন শেষ করে, যা ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবার।

সৌদি আরবে পাইপলাইন চালু

সৌদি আরব মঙ্গলবার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানোর সক্ষমতা রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।

ইরাকও বাড়াচ্ছে রপ্তানি

ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির তেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ইরাকের তেল রপ্তানি এখনো কম রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে তেলের মজুত

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। যদিও রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA) বুধবার দেশটির সাপ্তাহিক তেল মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কেন দাম কমছে?

তেলের দাম কমার পেছনে প্রধানত তিনটি বিষয় কাজ করছে:

  • মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা
  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা
  • যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধি

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি তেলের বাজারে পরবর্তী সময়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Social Icons