ওশেনিয়ার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু দেশের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং জানান, এখন থেকে দেশটি ‘নাওয়েরো’ নামে পরিচিত হবে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি নামকে পুনরুদ্ধার করা এবং দেশের নিজস্ব পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
কেন নাম পরিবর্তন করল নাউরু?
ডেভিড আদিয়াং বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বহু বছর ধরে দেশটি নাউরু নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত নাম হলো নাওয়েরো। বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার কারণে প্রচলিত নামটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নাম গ্রহণ অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো পদক্ষেপ নয়। বরং নিজেদের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নাম পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ।
নাউরু ও নাওয়েরোর পার্থক্য কী?
নাউরু ও নাওয়েরো মূলত একই নামের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও বানান ও উচ্চারণে পার্থক্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ‘Nauru’ সাধারণত ‘নাও-রু’ হিসেবে উচ্চারিত হয়। নতুন নাম ‘Naoero’ উচ্চারণ করা হবে ‘নাও-এরো’ হিসেবে।
প্রেসিডেন্ট আদিয়াং তার বক্তব্যের শেষে বিশ্ববাসীর প্রতি নিজেদের নতুন নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করার আহ্বান জানান।
দেশটির আন্তর্জাতিক পরিচয়েও পরিবর্তন
নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি নাউরুর আন্তর্জাতিক কোডেও পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির বর্তমান NRU কোড পরিবর্তন করে NRO করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দেশটির নাগরিকদের পরিচয়েও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। তারা আগের পরিচয়ের পরিবর্তে নতুন নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিচয় ব্যবহার করবেন।
নাউরুর আয়তন ও জনসংখ্যা
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এই ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটির আয়তন প্রায় আট বর্গমাইল। দেশটিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
ব্রিটিশ, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৯৬৮ সালে নাউরু স্বাধীনতা লাভ করে।
নাম পরিবর্তনের ঘোষণা কবে দেওয়া হয়?
নাউরুর পক্ষ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রথম ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এরপর আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তনের ঘোষণা আসে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াংয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরও যেসব দেশের নাম পরিবর্তন হয়েছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে নিজেদের নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করেছে। এর মধ্যে সোয়াজিল্যান্ড থেকে এসোয়াতিনি, রোডেশিয়া থেকে জিম্বাবুয়ে, বার্মা থেকে মিয়ানমার, আপার ভোল্টা থেকে বুরকিনা ফাসো এবং সিলন থেকে শ্রীলঙ্কা উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া পারস্যের নাম পরিবর্তন হয়ে ইরান, গোল্ড কোস্টের নাম পরিবর্তন হয়ে ঘানা এবং দাহোমির নাম পরিবর্তন হয়ে বেনিন হয়েছে।
নাউরুর ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত নামকে আন্তর্জাতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।





