GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / দোয়ায় কোন কামনায় আল্লাহর কোন গুণবাচক নাম জপবেন? কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা

দোয়ায় কোন কামনায় আল্লাহর কোন গুণবাচক নাম জপবেন? কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা

দোয়া করার সময় অধিকাংশ মানুষ কেবল নিজেদের জাগতিক অভাব-অনটন ও প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করলেও ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো প্রার্থনার সময় আল্লাহর মহান গুণবাচক নামসমূহ (‘আসমাউল হুসনা’) ধরে তাঁকে আহ্বান করা।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুরা আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, “আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম; অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।”

বান্দা যখন আল্লাহর গুণাবলি ও নামের তাৎপর্য মনে রেখে তাঁর কাছে সাহায্য চায়, তখন তার অন্তরে আশা, গভীর ভরসা এবং বশ্যতার চরম অনুভূতি জাগ্রত হয়, যা দোয়া কবুলের পথ সুগম করে।

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট গুণবাচক নাম স্মরণের মাধ্যমে দোয়া করা মোস্তাহাব; যেমন হালাল ও বরকতময় রিজিকের প্রার্থনায় ‘আর-রাজ্জাক’ (রিজিকদাতা), ভুলত্রুটি ও গুনাহের পর ক্ষমার জন্য ‘আল-গাফুর’ (অতীব ক্ষমাশীল) এবং তাওবার ক্ষেত্রে ‘আত-তাওয়াব’ (বারবার তাওবা কবুলকারী) নামটি স্মরণ করা উচিত।

অনুরূপভাবে যেকোনো কঠিন বিপদ বা জটিল পরিস্থিতিতে অতি সূক্ষ্ম অনুগ্রহের আশায় ‘আল-লতিফ’, দোয়ায় সাড়া পাওয়ার দৃঢ় আকুলতায় ‘আল-মুজিব’ এবং মহান আল্লাহর অন্তহীন ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় ‘আল-ওয়াদুদ’ নাম ধরে মনের আকুতি তুলে ধরা যায়।

যেকোনো চরম সংকটকালে বা কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর চিরঞ্জীব ও সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর ভরসা রেখে ‘আল-হাইয়্যু, আল-কাইয়্যুম’ স্মরণ করে সাহায্য চাওয়া উচিত, যাকে হাদিসে ‘ইসমে আজম’ বা আল্লাহর সুমহান নামের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন যে, আল্লাহর ৯৯টি নাম যে ব্যক্তি আয়ত্ত (সংরক্ষণ ও আমল) করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; তাই নির্দিষ্ট কোনো নামের বাহ্যিক অন্ধ গণনার চেয়ে অন্তরের আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে গুণবাচক নাম স্মরণ করাই দোয়ার আসল প্রাণ।

Social Icons