কোরআনে মশার উদাহরণ কেন এসেছে?
মশা আকারে ক্ষুদ্র হলেও মানুষের জন্য নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পবিত্র কোরআনেও মশার উল্লেখ এসেছে। সুরা আল-বাকারার ২৬ নম্বর আয়াতে মশাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো বস্তুকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৬)
ক্ষুদ্র সৃষ্টি হলেও তুচ্ছ নয়
এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, কোনো বিষয় বোঝানোর জন্য আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির যেকোনো কিছুকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে পারেন। কোনো সৃষ্টি আকারে ছোট হওয়ায় তা তুচ্ছ হয়ে যায় না।
তাফসিরে ইবনে কাসিরে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির যেকোনো বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মুমিনরা এসব উদাহরণে আল্লাহর হেকমত উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন।
একই উদাহরণে মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন
আয়াতটিতে মানুষের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনরা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা উদাহরণকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন, আর অবিশ্বাসীরা সেই উদাহরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এর মাধ্যমে মানুষের অন্তরের অবস্থার একটি দিকও প্রকাশ পায়। একই বিষয় একজনের জন্য হেদায়েতের কারণ হতে পারে, আবার অন্য কেউ তা নিয়ে আপত্তি তুলে মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
মশার উল্লেখ থেকে কী শিক্ষা?
সুরা আল-বাকারার এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কিছুই অকারণে উল্লেখ করা হয় না। কোরআনের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে হলে তার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন।
তাই মশার উল্লেখকে শুধু একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর বিবরণ হিসেবে না দেখে আয়াতের মূল বক্তব্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আল্লাহর বাণী গ্রহণ, সত্যের প্রতি বিনয় এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করার বিষয়টি সামনে আসে।
ডেঙ্গুর সময়ে বাস্তব সতর্কতাও জরুরি
বর্তমানে মশাবাহিত রোগের প্রকোপের সময়ে এই আয়াত মানুষকে সৃষ্টিজগত ও নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবার সুযোগ দিতে পারে। একটি ক্ষুদ্র প্রাণীও মানুষের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে রোগ প্রতিরোধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি। মশার বংশবিস্তার রোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা যেতে পারে।
সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া
নবী (স.) সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার একটি দোয়া শিখিয়েছেন—
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
অর্থ: ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’
হাদিসে কোনো স্থানে অবস্থান নেওয়ার সময় এই দোয়া পড়ার কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ২৭০৮; সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৯৮)
মূল শিক্ষা
কোরআনে মশার উল্লেখের মূল উদ্দেশ্য কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরা নয়। বরং ক্ষুদ্র একটি সৃষ্টিকে উদাহরণ হিসেবে সামনে রেখে আল্লাহ মানুষকে তাঁর বাণী থেকে শিক্ষা নিতে, সত্য গ্রহণ করতে এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন।


