রাজধানীর সংসদ ভবন সংলগ্ন ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের শয়নকক্ষের পাশের খোলা বারান্দাতেই ঘুমাতে হতো তাঁর সদ্য বিবাহিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১৯)।
আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
টানা দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত আসামি এমপিকে কারাগারে প্রেরণের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেন।
আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল স্বীকার করেছেন যে নিহত মরিয়মের বাবা তাঁর দূরসম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। ঢাকায় এলে তিনি মরিয়মের বাবার বাসাতেই অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকেই তাঁর সংসদীয় কার্যক্রম চালাতেন। সেই সুবাদেই তরুণী মরিয়মের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতি মেনে মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি এবং পরে নিজ এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পাদন করা হয়।
মামলার তদন্ত নথিতে বলা হয়, বিয়ের পর গাজী নজরুল তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে একই সঙ্গে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে এনে রেখেছিলেন। প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে নিজ ঘরে থাকার সময় অধিকাংশ রাতেই মরিয়মকে শোবার ঘরের পাশের বারান্দায় বাধ্য হয়ে ঘুমাতে হতো। প্রথম স্ত্রীর মানসিক নির্যাতন ও এমন অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মরিয়ম মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে ডিবি পুলিশ জানতে পেরেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই এমপি গাজী নজরুল এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে রিমান্ড শেষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে ২২ সেপ্টেম্বর এবং পরবর্তীতে আটক হওয়া তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

