GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / মিরপুরে হকার উচ্ছেদে বিস্ময় প্রকাশ জামায়াত আমিরের

মিরপুরে হকার উচ্ছেদে বিস্ময় প্রকাশ জামায়াত আমিরের

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃক পরিচালিত হকার উচ্ছেদ অভিযান এবং হকারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

অভিযান চালানো এলাকাটি ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি উক্ত আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে তাঁকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি কিংবা কোনো পরামর্শও করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমিরের বক্তব্য

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন ও পুলিশ। অভিযান চলাকালে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উচ্ছেদকারী দল ও পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে সিটি করপোরেশনের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।”

বিকল্প পুনর্বাসন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

সংঘাতের পথ এড়িয়ে বাস্তবভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেন হুট করে আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন এবং একই সঙ্গে সাধারণ পথচারীদের চলাচলের রাস্তাও যেন সুগম থাকে—এমন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে একটি অসাধু ও চাঁদাবাজ চক্র এসব ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা তুলে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই জঘন্য চাঁদাবাজির চূড়ান্ত আর্থিক বোঝা এসে পড়ে সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ঘাড়ে।

উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও ভেবে দেখা দরকার।”

ভবিষ্যতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে নিরপেক্ষ, মানবিক ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সবাইকে শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি যোগ করেন, যেকোনো সমস্যার মানবিক সমাধান থাকলেও ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ জন্য কোনো ছাড় বা জায়গা নেই।

Social Icons