কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রক্টর কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা বৈঠকের পরপরই ফের শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর, আইসিটি বিভাগের সভাপতি এবং একাধিক শিক্ষার্থী। সংঘর্ষে আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুরুতর আহত হন। তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও মীমাংসা বৈঠক
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার কুষ্টিয়াগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোধূলী’ বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ঘটনা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বুধবার সকালে প্রক্টর কার্যালয়ে দুই বিভাগের সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ বৈঠক আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে তিনটি প্রধান সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো—উভয় পক্ষ কর্তৃক নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়ভার গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।
মীমাংসার পর ফের সংঘর্ষ ও ফটক অবরোধ
তবে প্রক্টর কার্যালয়ে ইতিবাচক বৈঠক শেষ করে বের হওয়ার পরপরই চত্বরে দুই বিভাগের উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুনরায় লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে প্রক্টর ও উপস্থিত শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের হামলার মুখে পড়েন এবং আহত হন।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে আইসিটি বিভাগের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছে বাংলা বিভাগ।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, মীমাংসার পর এভাবে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
