GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / তাজমীন হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল শেষ মুহূর্তের গতিবিধি

তাজমীন হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল শেষ মুহূর্তের গতিবিধি

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমীন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে। ফুটেজে কক্সবাজার থেকে ফেরার পর কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় তাকে একা বাস থেকে নামতে এবং পরে শহরে ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তার ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ধানখেতে ধস্তাধস্তির চিহ্নও দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন জানান, সড়কের পাশে ধানখেতের মধ্যে একটি অটোরিকশা দেখতে পেয়ে তিনি এগিয়ে যান। কিছু দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ধানখেতের ভেতরে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

আরেক বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানখেতের অবস্থা দেখে তার মনে হয়েছে, সেখানে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। তবে হত্যার আগে ধর্ষণ বা অন্য কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ নামের একটি দূরপাল্লার বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকার নুরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমীন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একা বাস থেকে নামতে দেখা যায়।

এরপর শহরের বাসায় ফেরার জন্য তাকে সড়কে দাঁড়িয়ে অটোরিকশা থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। শহরগামী অটোরিকশা না পেয়ে সে কিছুক্ষণ হোটেলের সামনে অপেক্ষা করে। পরে আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত সোয়া ১২টার দিকে তাজমীন হেঁটে কিছুটা সামনে গিয়ে একটি অটোরিকশায় ওঠে। এরপর তার গতিবিধি এবং হত্যাকাণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, তা জানতে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে, তাজমীনকে ঘিরে কয়েকজন যুবকের ঘোরাফেরার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

বাবাকে ফোন করে উদ্ধারের আকুতি

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাজমীন তার বাবাকে ফোন করে জানিয়েছিল, কয়েকজন তাকে আটকে রেখেছে এবং তাকে নিয়ে যেতে বলেছিল। সে তার লাইভ লোকেশনও শেয়ার করেছিল। তবে সেই অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

পরে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি তারা।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাজমীনের মা-বাবা। তার বাবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাজমীনের মা তার সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া বান্ধবীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তে কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

অটোরিকশাচালক গ্রেফতার

অটোরিকশার সূত্র ধরে শুক্রবার চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে চালক মো. সুমনকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে অটোরিকশাচালক সুমনকে গুরুত্ব দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার আগে তাজমীন ধর্ষণ বা অন্য কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, তা ময়নাতদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা যেতে পারে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধারের স্থানের অন্তত পাঁচটি ধানখেতে ছোটাছুটি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমীন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল।

যশোরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

তাজমীনের বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেই সূত্রে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীতে ভাড়া বাসায় থাকত। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায়।

শুক্রবার সকালে যশোরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাদার কবরের পাশে তাজমীনকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, অন্যান্য আলামত ও গ্রেফতার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Social Icons