রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটতলা থেকে পড়ে সামিয়া নুর (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা নুরুন্নবী। মেয়েকে হারানোর বেদনায় তিনি বলেন, ‘আজ আমি সব হারালাম, এখন আমরা কী নিয়ে বাঁচব?’
মায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছিল পরিবার
সামিয়া গাজীপুরের কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে সে গাজীপুরের বোর্ডবাজার সাইনবোর্ডসংলগ্ন কলমেশ্বর এলাকায় বসবাস করত।
তার মা পারুল আক্তার (৪৫) জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটতলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। আগামী ২৮ অক্টোবর তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। মায়ের চিকিৎসার কারণে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
পরিবারের বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন হাসপাতালের বাইরে থেকে ফিরে সামিয়া তার মাকে ক্ষুধা লাগার কথা জানায় এবং ভাত খেতে চায়। খাওয়া শেষে সে হাসপাতালের বেড থেকে কিছুটা দূরে থাকা কোমরসমান উঁচু একটি জানালার মতো স্থানে গিয়ে বসে।
সামিয়ার বাবা নুরুন্নবী জানান, ওই সময় তার মা বেডের নিচে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। জানালার মতো জায়গাটিতে বসে নিচের দিকে তাকানোর পর সামিয়ার মাথা ঘুরে যায়। এরপর অসাবধানতাবশত সে নিচে পড়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে
পড়ে গিয়ে সামিয়া গুরুতর আহত হয়। তার বাবা জানান, চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, দুর্ঘটনায় মেয়েটির ঘাড় ও একটি হাত ভেঙে যায়। তার কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশেও গুরুতর আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হয়।
পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
দত্তক নেওয়া মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত বাবা
নুরুন্নবী স্থানীয় বাজারে একটি কনফেকশনারির দোকান পরিচালনা করেন। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে তিনি গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।
তিনি জানান, আগে নিঃসন্তান ছিলেন তিনি। সামিয়ার বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তাকে দত্তক নেন। এরপর অনেক আদর-যত্নে মেয়েকে বড় করেছেন।
সেই মেয়েকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিঃসন্তান ছিলাম। মাত্র তিন বছর বয়সে কলিজার টুকরা মেয়েটিকে দত্তক নিয়েছিলাম। কত আদর করে তাকে মানুষ করেছি! আজ আমি সব হারালাম, এখন আমরা কী নিয়ে বাঁচব?’
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









