সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পতনের ছাপই বেশি ছিল। দিনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। তবে এই দরপতনের মাঝখানে দামের ঊর্ধ্বমুখী ঢেউ তুলতে দেখা যায় মিউচুয়াল ফান্ডকে।
মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট

ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পরপরই মিউচুয়াল খাত দাপট দেখাতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ড দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় উঠে আসে। দিন শেষে সেই ধারাই বজায় থাকে—যদিও বাজারজুড়ে অন্য খাতের শেয়ারদর কমায় সামগ্রিক চিত্র ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
এই দিনটিতে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় ছিল। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৫টির, আর ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে চিত্রটা আলাদা—দাম বাড়ে ২৯টির, কমে ১টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ৪টির।
ভালো লভ্যাংশেও দাম-দোল
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ এবং তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও দর ওঠানামা দেখা যায়। এ শ্রেণিতে ৫৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে, কমেছে ১২৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির শেয়ারদাম।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭টির শেয়ার দাম বাড়ে। কমে ৫৫টির, আর অপরিবর্তিত থাকে ১টির। অর্থাৎ, লভ্যাংশের ধরন অনুযায়ীও বাজারের সামগ্রিক মনোভাব ছিল চাপা।
ডিএসইতে সূচক কমল, লেনদেন বাড়ল
শেয়ারদরের এই দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১৬ পয়েন্টে নামে। ডিএসই শরিয়াহ সূচকও ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
তবে সূচক কমলেও বাজারে টাকার গতি ছিল বেশি। দিনের লেনদেন হয় ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আইটি কনসালটেন্টস—কোম্পানিটির শেয়ারে লেনদেন হয় ৫২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের লেনদেন ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে ফারইস্ট নিটিং—১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন। এছাড়া ফুওয়াং সিরামিক, স্যালভো কেমিক্যাল, সিটি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, সায়হাম কটন এবং ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল।
বাজারে ভারসাম্য কোথায়?
দামের দিক থেকে ডিএসইতে বেশিরভাগ শেয়ার কমলেও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সামগ্রিক সূচক ঠেকানো যায়নি। এদিন অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও ডিএসইতে মূল্যসূচকের পতন দেখা গেছে।
প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দিনের বার্তা বেশ পরিষ্কার—বিভিন্ন খাতে আলাদা গতি থাকলেও বাজারের সামগ্রিক মনোভাব একদিকে গেলে সূচকও নিচের দিকে নামতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
মিউচুয়াল ফান্ড কেন এদিন দাপট দেখায়? ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পর মিউচুয়াল খাতে দাম বাড়ার প্রবণতা দ্রুত ছড়ায় এবং কয়েকটি ফান্ড সর্বোচ্চ সীমায়ও ওঠে।
সূচকের কী হলো? ডিএসইএক্সসহ সব সূচকই কমেছে—শেষ পর্যন্ত দরপতনের চাপ ছিল প্রধান।
লেনদেন কি কমেছে? না। বরং আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









