GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / নাগরিক সেবা / টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেসব শর্তে, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেসব শর্তে, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি

ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন (টিন) সার্টিফিকেট বিভিন্ন প্রয়োজনে তৈরি করলেও পরবর্তী সময়ে অনেকের আর সেটির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু টিআইএন নিবন্ধন সক্রিয় থাকায় আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন করসংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়েন। নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

অনেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে টিআইএন নিবন্ধন করেন। প্রয়োজন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নম্বরটি সক্রিয় থাকলে করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে আইনগত জটিলতার আশঙ্কাও থাকে।

তবে শুধু টিআইএন থাকলেই সবাইকে একই পরিমাণ আয়কর দিতে হয় না। ব্যক্তির আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করের দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিনের প্রয়োজন নেই মনে করে সরাসরি রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের করসংক্রান্ত অবস্থান যাচাই করা জরুরি।

কোন কোন কারণে টিন বাতিলের আবেদন করা যায়?

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। উল্লেখযোগ্য পরিস্থিতিগুলো হলো:

১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

২. একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক টিআইএন থাকলে

ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা সম্ভব।

৩. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ হলে

নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে এবং অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে।

৪. করযোগ্য আয় না থাকলে

কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।

৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে

কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তাঁর আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে।

৬. করদাতার মৃত্যু হলে

কোনো টিআইএনধারী ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। তবে মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।

টিন সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন করবেন যেভাবে

টিআইএন বাতিলের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবার বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সাধারণত আবেদনে টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে সমর্থনকারী কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তথ্য ও নথি যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্র বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সরাসরি আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো:

  • টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ।

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

  • ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়।

  • টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি।

  • সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।

কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

তাই টিআইএন বাতিলের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

Social Icons