কৃষিপ্রধান ময়মনসিংহের অর্থনীতিতে গতি আনার পথ হিসেবে আলোচনা উঠেছে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সমন্বয়ের। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য যদি নির্ভুল ও একীভূতভাবে তৈরি করা যায়, তবে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে মূলধন যাওয়া সহজ হবে।
বিডা-এডিবি-সানেমের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালা

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) যৌথ উদ্যোগে বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহের একটি রিসোর্টে। ‘বাংলাদেশের শিল্প জরিপ’ শিরোনামে এই কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় অংশীজনরা অংশ নেন।
কর্মশালায় শিল্প জরিপের উদ্দেশ্য, পরিধি ও যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় খাত শনাক্ত করা, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় এবং জরিপের তথ্য যাচাইয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সহযোগিতা নিশ্চিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার তাগিদ
উদ্বোধনী বক্তব্যে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের জন্য সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা জরুরি। তিনি সরকারি-বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
এডিবির পাবলিক সেক্টর ইকোনমিস্ট তাসনিম আলমও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এসব মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ ডাটাবেজ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
খণ্ডিত তথ্যের বাধা কাটাতে জরিপ
বিডার মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক তুলে ধরেন, বর্তমানে বিভিন্ন বিনিয়োগ সংস্থার কাছে খণ্ডিত তথ্য থাকলেও দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র অনুপস্থিত। তাঁর মতে, শিল্প জরিপের মাধ্যমে নির্ভুল বিনিয়োগ তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি উচ্চ রপ্তানি সম্ভাবনাময় আঞ্চলিক খাত, বিশেষ করে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পগুলো চিহ্নিত করা হবে।
কৃষিকে সুসংগঠিত শিল্পে রূপান্তরের প্রত্যাশা
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর সরকার বলেন, ময়মনসিংহ মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। তাই এখানকার সামগ্রিক উন্নয়ন কৃষিখাতের ওপর নির্ভরশীল। সমীক্ষা কৃষিকে একটি সুসংগঠিত শিল্পখাতে রূপান্তরে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহে আইটি, চামড়া, গবাদিপশু, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা খাতে সম্ভাবনা আছে। তবে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে এগুলো এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে কাঁঠাল ও আনারসের মতো কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির সুযোগ থাকলেও বড় বিনিয়োগকারীর অভাব রয়েছে—এ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
কৃষি-শিল্প সমন্বয়েই বিনিয়োগের গতি?
আলোচকেরা বলছেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সক্ষমতা, বিনিয়োগ তথ্যের নির্ভুলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ততা একসঙ্গে কাজ করতে পারলে ময়মনসিংহে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
প্রশ্নোত্তর
ময়মনসিংহ শিল্প জরিপের মূল উদ্দেশ্য কী? শিল্প জরিপের মাধ্যমে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা এবং বিনিয়োগের বাধা বোঝা।
কেন কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের কথা বেশি বলা হলো? ময়মনসিংহ কৃষিপ্রধান হওয়ায় কৃষিকে সুসংগঠিত শিল্পে রূপ দিতে সমীক্ষা সহায়তা করবে।
কর্মশালায় কারা অংশ নেন? সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং স্থানীয় অংশীজনরা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









