বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে সরকার অর্থ পাচার বন্ধে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দক্ষ কর্মী তৈরির পরিকল্পনা, জ্বালানি খাতে উদ্যোগ এবং ব্যবসা করার বাধা কমানোর কথাও বলা হয়েছে।
অর্থ পাচার বন্ধই বিনিয়োগ বাড়ানোর শর্ত

ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, অর্থ পাচার থামাতে না পারলে বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত গতি আসে না। এ ধরনের অর্থ বিদেশে কিংবা অন্য পথে চলে গেলে দেশের ভেতর পুঁজি সচল থাকে না। ফলে বিনিয়োগের চাপ তৈরি হওয়ার পথও ধীর হয়ে যায়।
তিনি বলেন, সরকার দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকে সামনে রেখে এমন একটি অর্থনীতি গড়তে চায় যেখানে কর্মসংস্থান তৈরি হবে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতায়। অর্থ পাচার বন্ধ হলে সেই ধারায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আলোচনায় জোর দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষা-উৎপাদনের সংযোগ ও মানবসম্পদ গড়ার উদ্যোগ
জোনায়েদ সাকি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরি করতে শিক্ষা ও উৎপাদন খাতের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর দায়িত্বও ইন্ডাস্ট্রির বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সংকটে ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’
আলোচনায় জ্বালানি খাতের সংকট কাটাতে সরকারের ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণের কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা, কূপ খননের উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে জ্বালানি আনার নীতির কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, সোলার প্রকল্পে জমি, ঋণ ও কর-সুবিধা দিয়ে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা আছে।
লাইসেন্স, ইউটিলিটি ও নতুন বিনিয়োগ খাতের কথা
ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা কমাতে দ্রুত সেবা দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি। আলোচনা অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ে লাইসেন্স দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে তৈরি হচ্ছে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র—গার্মেন্টস, লজিস্টিকস ও চামড়ার মতো ঐতিহ্যগত খাতের পাশাপাশি আইসিটি, ইলেকট্রনিকস, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো খাতে সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
নীতি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও উঠেছে
অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অন্য বক্তারাও কথা বলেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মূলত সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে—এ অবস্থায় উৎপাদনশীলতাকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু করা জরুরি।
দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিও বলেন, নীতিমালায় ঘাটতি রয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থায় বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন আছে। অন্যদিকে নীতিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত উৎসাহ পান না বলেও মত আসে।
প্রশ্ন–উত্তর
অর্থ পাচার বন্ধ করার লক্ষ্য কী?
পুঁজি যাতে দেশে সচল থাকে এবং বিনিয়োগের চাপ তৈরি হয়—সেটাই মূল লক্ষ্য।
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকার কী ভাবছে?
দক্ষ কর্মী তৈরিতে শিক্ষা ও উৎপাদন খাতের সংযোগ, এবং ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসা করতে সুবিধা মিলবে কীভাবে?
দ্রুত লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা দাঁড় করানোর কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









