GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন আট বছর পরও অনিশ্চিত

চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন আট বছর পরও অনিশ্চিত

বাংলাদেশের চা বাগানে শ্রমিকদের ভোট ও ইউনিয়ন নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতীকী চিত্র

ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন চা শ্রমিকরা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু আগেই। তবু তফসিল নেই, ভোটের প্রস্তুতির দৃশ্যমান আভাসও নেই। ফলে ২০১৮ সালে নির্বাচিত কমিটিই দীর্ঘদিন টেনে চলেছে দায়িত্ব।

চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে এই দীর্ঘ বিলম্ব যেন অধিকার আদায়ের পথটা আরও কঠিন করে তুলেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর ভোট হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণেই ২০২১ সালেই নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এখনও নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারেনি সংগঠনটি।

আট বছর ধরে একই নেতৃত্ব, বাড়ছে ক্ষোভ

বাংলাদেশের চা বাগানে শ্রমিকদের ভোট ও ইউনিয়ন নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতীকী চিত্র

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১৬৮টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে নিবন্ধিত ভোটার প্রায় এক লাখ। এসব ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে পঞ্চায়েত, ভ্যালি ও কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করার বিধান আছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় অনেক জায়গায় নির্বাচিত পঞ্চায়েত কমিটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও কোথাও পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নির্বাচন স্থগিত থাকার প্রভাব পড়ছে শ্রমিক সংগঠনের ভেতরে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা, অধিকার আদায়ের আলোচনা এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে বলে শ্রমিকরা মনে করছেন। নির্বাচন না হওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তনের সুযোগও কার্যত বন্ধ, ফলে সংগঠনের ভেতরে বিভাজন ও অসন্তোষও বাড়ছে।

মজুরি-সেবা-শিক্ষায় জবাবদিহি দুর্বল হচ্ছে

নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ঠিকভাবে পেশ করা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ আছে। মজুরি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন শ্রমিক কল্যাণমূলক বিষয় মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান শ্রমিকরা।

শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক পূর্ণিমা র‌্যালি বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের নির্বাচন হয়নি। যারা নির্বাচিত হন তারা পদ ছাড়তে চান না—এ অভিযোগ তুলে দ্রুত সময়ে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একইভাবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুধীর রিকিয়াশন বলেন, প্রায় আট বছর আগে নির্বাচন হলেও বহুবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

নিরপেক্ষ নির্বাচন চান শ্রমিক নেতৃত্ব

শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে কথা বলার শক্ত প্ল্যাটফর্ম কমে যাওয়ার হতাশাও আছে। চা শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদ বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে বছরের পর বছর একই নেতৃত্ব বহাল থাকছে বলে তার অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, অনেক বাগানে ২০১৮ সালের নির্বাচিত পঞ্চায়েত কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকরা একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান।

গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রসঙ্গ

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, নির্বাচন বিলম্বের একটি কারণ হলো গঠনতন্ত্র সংশোধন। তার মতে, বর্তমান কমিটি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তুলেছে। আট বছর ধরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, অতীতে সরকারের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই এবারও সরকারের তত্ত্বাবধানেই নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান রামভজন কৈরী।

প্রবাসী পাঠকদের জন্য প্রশ্ন

  • চা বাগানের শ্রমিকরা যখন আট বছর ধরে ভোটচর্চার বাইরে, তখন তাদের অধিকার আদায়ের গতি কীভাবে বাড়বে?
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন দ্রুত হলে পঞ্চায়েত ও ভ্যালি কমিটির জবাবদিহি কি জোরদার হবে?
  • সরকারি তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের দাবি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে?

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons