চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিনিয়োগ টেকসই করতে হলে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সেই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে জানান, প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জি-টু-জি উদ্যোগ, দীর্ঘ মেয়াদি কনসেশন চুক্তি
তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পটি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি দীর্ঘমেয়াদি মডেল। ৫০ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির আওতায় শিল্পাঞ্চল পরিচালিত হবে, পরে আরও ৫০ বছর নবায়নের সুযোগ থাকবে। এই বিন্যাসকে সরকার শিল্পোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সহায়ক হিসেবে দেখছে।
শিল্প উৎপাদন থেকে দক্ষ মানবসম্পদ—বহুমাত্রিক লক্ষ্য
সিইআইজেডের ভূমিকা শুধু শিল্প স্থাপনে সীমিত থাকবে না বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বেজার ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে দ্রুত সহায়তা
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন, ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, জি-টু-জি চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের ভিত্তি
প্রকল্পটিকে বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্ন-উত্তর
সিইআইজেড কোথায় হচ্ছে?
চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায়।
প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নির্বিঘ্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে।
বেজা কী সুবিধা দিচ্ছে?
ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন, ইউটিলিটি সংযোগ ও প্রশাসনিক সহায়তা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









