GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা ঘিরে খেলাপি ঋণ ও তারল্য চিত্র

খেলাপি ঋণ বাড়া ও তারল্য চাপে টান—এ দু’টি বিষয়কে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যাংকিং সেক্টর আপডেটে দেখা যাচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যাংকে ঝুঁকি দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা ঘিরে খেলাপি ঋণ ও তারল্য চিত্র

২০২৬ সালের মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকেও চাপ

নয়টি চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণও লাগামহীনভাবে বাড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এ হার পৌঁছেছে ৫২ দশমিক ২ শতাংশে। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

এডিআর বাড়ছে, তারল্য চাপও বাড়ছে

তারল্য পরিস্থিতি বোঝাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআরের (অ্যাডভান্স-টু-ডিপোজিট রেশিও) দিকে নজর দিয়েছে। মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর এডিআর দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ৩ শতাংশ। আর চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর ১০১ দশমিক ৬ শতাংশ।

কিছু ব্যাংকে এডিআর ১০০ শতাংশেরও বেশি দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এটি আমানতের তুলনায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, ঋণ পোর্টফোলিও দ্রুত বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করায় চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর এডিআর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

ঝুঁকি কমেনি, নিয়ন্ত্রণে জোর

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পুরো ব্যাংকিং খাতের গড় এডিআর বর্তমানে ৮২ দশমিক ৭ শতাংশ। খাতভিত্তিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হলেও ইসলামী ও চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সীমিত তারল্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা, দ্রুত ঋণ সম্প্রসারণ এবং কাঠামোগত দুর্বলতা।

এদিকে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলার ঘাটতি এবং সম্ভাব্য সুশাসন সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আমানত প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর থাকায় চাপ আরও বাড়তে পারে—এ দিকটিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব দিয়ে দেখিয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, এডিআর গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

দ্রুত প্রশ্ন

কোন ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বেশি?
পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক এবং চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক—এই দুই শ্রেণিতে ঝুঁকি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এডিআর বাড়ার মানে কী?
সাধারণভাবে আমানতের তুলনায় বেশি ঋণ দেওয়ার প্রবণতা বোঝায়, যা তারল্য চাপে ফেলতে পারে।

খাতভিত্তিক চিত্র কেমন?
সম্পূর্ণ ব্যাংকিং খাতে গড় এডিআর ৮২ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ায় সামগ্রিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons