ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে ঠিকাদারের গাফিলতিতে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে। নির্ধারিত সময় শেষে নিয়ে আসার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ডিসেম্বর ঘনিয়ে এলেও কাজের গতি কম

প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হতে চলেছে ডিসেম্বরে। সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার কর্তৃপক্ষও অধিকতর অর্থায়নে আগ্রহ হারানোর কথা বলছে সংশ্লিষ্টরা। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক কবে সম্পূর্ণ বাস্তব হবে—তার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জমি অধিগ্রহণে অগ্রগতি, তবু রাস্তার কাজে থাবা
তবে বিলম্বের কারণ হিসেবে জমি অধিগ্রহণকে একেবারে দায়মুক্ত করা যাচ্ছে না—যদিও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়েছে।
জমি ও প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়ার পরও মহাসড়কের নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সহায়তার পরও কাজ এগোয় না—এমন ক্ষোভ স্থানীয়দের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধির গড়িমসি
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড এবং লট-১ এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স ফার্মের স্থানীয় প্রতিনিধি কাজ পরিচালনায় গড়িমসি করছে। জমি অধিগ্রহণ ও বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ হলেও পুরো রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গর্তের কারণে যান চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ, সফরে পাওয়া বার্তা
প্রকল্প সূত্রে বলা হয়, ২০২০ সালে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকায়। পরে ব্যয় সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। কাজের গতি মন্থর থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন। তারা প্রকল্প এলাকায় পরিদর্শনে এসে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। বর্ধিত হবে কি না, তা বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে।
বিলম্বের পটভূমি: জরিপ-পরিদর্শনে সময়ক্ষেপণ
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কাজ করেছে সরকারের ছয়টি বিভাগ। জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়েছে। তবে এখন প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও নির্মাণ কাজ কেন এগোচ্ছে না—এটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ জানিয়েছেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তার মতে, এই কাজে প্রশাসনের কোনো গাফিলতি নেই; দ্রুততার সঙ্গে অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
প্রশ্ন থেকে যায়— জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ঠিকাদারি কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি কেন হচ্ছে না? ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি, নাকি আবারও সময় পেছাবে? এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এই অবস্থার দ্রুত সমাধান কি আসবে?
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









