চট্টগ্রামের চন্দনাইশে নিঃসঙ্গ এক বৃদ্ধ আবদুর রহমানের গলিত মরদেহ মিলেছে বাড়ির ভেতরে। স্ত্রী ও তিন ছেলেই প্রবাসে—মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অবশেষে দরজা খুলে তাঁর লাশ দেখতে পান স্বজনেরা।
দরজা বন্ধ দেখে খোঁজ, মিলল মরদেহ

গতকাল সোমবার তাঁর ছেলেরা ফোনে যোগাযোগ পাচ্ছিলেন না বলে জানা যায়। একই দিন বিকেলে ছোট ছেলের স্ত্রী তাঁর বাবার বাড়ি থেকে এসে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলা হলে খাটের ওপর আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শেষ দেখা চা–দোকানে, মৃত্যু নিয়ে ধারণা
বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। নিজের রান্না নিজে করতেন এবং চারপাশের মানুষের সঙ্গে বেশি মেলামেশা ছিল না বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর আর বাইরে দেখা যায়নি। পরে পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল; চেহারাও বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
দেড় বছর আগে দুবাইয়ে, আর ফেরেননি
আবদুর রহমান নিজেও দুবাই শহরেই থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর তিনি দুবাইয়ে ফেরেননি। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় দুবাইয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন—এই কারণেও প্রবাসে অবস্থানকারী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
পুলিশ জানায়—বারবার ফোনেও মিলেনি সাড়া
পুলিশের কাছে ছোট ছেলের স্ত্রী জানান, দুবাই থেকে ছেলেরা বারবার বাবাকে ফোন করে খবর পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সাড়া মেলেনি। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে তাঁরা দরজা বন্ধ অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
প্রবাসে পরিবার থাকলে নিয়মিত যোগাযোগটা কতটা জরুরি—এই ঘটনার মধ্যেই সেটা ফের মনে করিয়ে দিল এলাকার মানুষজন।
প্রবাসীদের জন্য করণীয় কী?
অনেক পরিবার দূরে থাকলেও একই ঠিকানায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হয়। যেমন—মাসিক নির্দিষ্ট সময়ে ফোন বা মেসেজ, প্রতিবেশীকে জরুরি বিষয়ে আগাম জানানোর ব্যবস্থা, এবং কারও সাড়া না পেলে দ্রুত খোঁজ নেওয়ার রুটিন।
প্রশ্ন: আবদুর রহমান কোথায় থাকতেন?
উত্তর: তিনি চন্দনাইশের নিজ বাড়িতেই একা থাকতেন। নিজেও আগে দুবাইয়ে থাকলেও দেড় বছর আগে দেশে আসেন।
প্রশ্ন: পরিবার কেন খোঁজ নিতে যায়?
উত্তর: দুবাই থেকে ছেলেরা বারবার ফোন করেও সাড়া না পাওয়ায় সোমবার একজন স্বজন এসে দরজা বন্ধ অবস্থায় তাঁকে পান।
প্রশ্ন: মরদেহ কোথায় পাঠানো হয়েছে?
উত্তর: উদ্ধার শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









