সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মভিসা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে এবং দালালদের প্রলোভনে টাকা লেনদেন থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভিসা বাতিলের কারণ খুঁজছে দূতাবাস

দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু ভিসা বাতিলের ঘটনাকে ঘিরে কারিগরি ত্রুটি আছে কি না, নাকি অন্য কোনো বিশেষ কারণে এমনটি ঘটছে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কতজনের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলো
দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
দ্রুত অনিশ্চয়তায় পড়ছেন কর্মীরা
বিমানবন্দরে গিয়ে ভিসা আর কার্যকর নেই—এমন তথ্য জানতে পারছেন অনেক প্রবাসী। কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছে ইমিগ্রেশনে ভিসা বাতিলের বিষয়টি জানতে পারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ভিসা বাতিল হয়েছে—এমন অভিযোগও সামনে আসছে। ফলে কর্মীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন।
দালাল ও আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা
এই সুযোগে ভিসা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে তার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন না করতে দূতাবাস সতর্ক করেছে। একদিকে ভিসাজটিলতা, অন্যদিকে দালালচক্র—দুই ধরনের ঝুঁকি থেকে প্রবাসীদের দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
প্রবাসীদের খরচ ও পরিকল্পনায় প্রভাব
ভিসা জটিলতার কারণে অনেকেই দ্রুত ফেরার চেষ্টা করছেন। এতে একমুখী বিমান টিকিটের দামও বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বাস্তবতায় কর্মীদের দৈনন্দিন পরিকল্পনা ও আর্থিক চাপ—দুটিই বাড়ছে বলে অনুভব করছেন তারা।
প্রশ্ন: দূতাবাস কি ভিসা বাতিলের কারণ নিশ্চিত করেছে?
উত্তর: দূতাবাস বলছে, কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য বিশেষ কারণে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন: দালালদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার বিষয়ে কী বলেছে মিশন?
উত্তর: ভিসা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে লেনদেন না করতে সতর্ক করেছে দূতাবাস।
প্রশ্ন: দূতাবাস আবেদনগুলো কোথায় পাঠাচ্ছে?
উত্তর: আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং যাচাই শেষে আরও আবেদনও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jugantor.com









