লোহিত সাগর জুড়ে হুতিদের হামলার টানাপোড়েনে এখন বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গড়ার কথা ভাবছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ রুটে ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক পণ্যমূল্য ও তেল-সংক্রান্ত চাপও কিছুটা সামলে আনার পথ তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক জোট গড়তে সৌদি আরবের আলোচনা

লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে তেলবাহীসহ বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক জোট গড়তে চায় সৌদি আরব। এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে তথ্য এসেছে—আলোচনার পরিধি বাড়ছে এবং ডজনখানেক দেশের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তবে জোটে ঠিক কারা থাকবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
কাদের নিয়ে হবে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই
সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র বাছাইয়ের কাজ চলছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট দফতর তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি—তবে আলোচনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে।
পটভূমি: নৌ-অবরোধ, পাল্টা প্রতিরোধ
ইরান-সমর্থিত হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের তথাকথিত অবরোধের জবাবে তারা লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধ আরোপ করছে। অন্যদিকে, ইয়েমেন অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এরপর হুতিরা জানায়, তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এর পাল্টা হিসেবে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুদাইদাহ বন্দরে হুতিদের সামরিক স্থাপনাগুলোয় বিমান হামলা চালিয়েছে—এ যুক্তিতে যে, ওই বন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় পারস্য উপসাগরের বাইরের রুটেও হামলার মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।
প্রবাসী ও ভোক্তাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মজীবন ও জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে জ্বালানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার যোগ গভীর। লোহিত সাগর রুটে ঝুঁকি বাড়লে তেল ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ে, ফলে বাজারে প্রভাব পড়ে। সৌদি আরবের এমন আন্তর্জাতিক জোট-চেষ্টা সেই ঝুঁকি কমিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহে সহায়তা করতে পারে—এটাই সবচেয়ে বাস্তব অর্থ।
প্রশ্নোত্তর
আন্তর্জাতিক জোট গড়তে সৌদি আরবের লক্ষ্য কী?
লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করা।
জোটে কারা থাকবে—এটা কি ঠিক হয়েছে?
না, কারা থাকবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ডজনখানেক দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এতে তেলের বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
হামলা ও রুট-ঝুঁকি কমলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের চাপও কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: Reuters









