গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর থেকেই তীব্র মানসিক চাপ, অপরাধবোধ ও হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেনাসদস্যরা।
ইসরায়েলে আত্মহত্যার এই প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে বলে মঙ্গলবার এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ‘হারেৎজ’।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে হারেৎজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৭ মাসে মোট ২৫ জন ইসরায়েলি সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেছেন।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যা করা ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জন নিয়মিত কর্মরত (অ্যাক্টিভ-ডিউটি) ছিলেন এবং অপর ৯ জন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, যারা গাজায় আইডিএফের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।
পৃথক প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল সেভেন’ জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও অন্তত ৩ জন সেনা আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যাঞ্চলীয় এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এক সেনাসদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরদিন থেকে শুরু হওয়া আইডিএফের টানা দুই বছরের প্রাণঘাতী অভিযানে গাজায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭৪ হাজার আহত হন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর মার্কিন মধ্যস্থতায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজা থেকে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার করেনি ইসরায়েল, উপরন্তু ২০২৬ সালের মার্চ থেকে লেবাননেও নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে তারা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১১ হাজার সেনা মানসিক চিকিৎসার অধীনে ছিল, সেখানে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা লাফিয়ে ৩১ হাজারে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৩৮ শতাংশ সদস্যই তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে তাদের নিজস্ব মন্ত্রণালয়।


